আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রয়াত নেতা খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে ইরানের বিশেষ ধর্মীয় পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’। যদিও এই দাবির বিষয়ে তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি, তবুও খবরটি ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তিনি আলি খামেনেইর দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই সর্বাত্মক সশস্ত্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


ইরান নিজেকে বরাবরই রাজতান্ত্রিক শাসনের বিরোধী এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে তা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের মতে, এতে ‘বংশানুক্রমিক শাসন’-এর অভিযোগ উঠতে পারে, যা ইরানের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অ্যাসেম্বলির ধর্মীয় নেতাদের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে তারা মোজতবাকে সমর্থন করেন। আলি খামেনেইর আমলে এই বাহিনী ইরানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দেশের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকে। একইসঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কও। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার সঙ্গে আইআরজিসি-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কার্যত তদারকি করতেন।

 


যদি এই নির্বাচন সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।