আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি৷ আরেকদিকে এই চরম উত্তেজনার আবহে নেভাদার মরুভূমিতে হঠাৎ ভূমিকম্প। ডামাডোলের মধ্যেই ঘনঘন ভূমিকম্প ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। নেভাদার ওই দুর্গম এলাকায় আমেরিকার এক অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার খুব কাছেই গত কয়েক দিনে দফায় দফায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে ওই এলাকার ৫০ মাইলের মধ্যে ১০০-র বেশি ছোট-বড় কম্পন হয়েছে। এর মধ্যে রবিবারের ৪.৩ মাত্রার ঝটকাটি ছিল সবথেকে জোরালো। লাস ভেগাসের মতো শহরেও সেই কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে। যদিও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

মূল চর্চা শুরু হয়েছে কম্পনের উৎসস্থল নিয়ে। জানা গিয়েছে, নেভাদার এই ‘টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জ’ এলাকাটি ‘এরিয়া ৫২’ নামে পরিচিত। কয়েক দশক ধরে এখানে অত্যন্ত গোপনীয় যুদ্ধবিমান এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চলে বলে কথিত রয়েছে। ফলে এই সময়ে হঠাৎ এতবার মাটি কেঁপে ওঠায় অনেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই জল্পনার পালে হাওয়া দিচ্ছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সামরিক সংঘাতের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া- সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের তরফে সরকারিভাবে কোনও পরমাণু পরীক্ষার কথা জানানো হয়নি।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে অবশ্য এর মধ্যে অলৌকিক কিছু নেই। তাঁদের দাবি, নেভাদা প্রাকৃতিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।ফলত হতেই পারে মাটির তলায় চ্যুতিরেখার নড়াচড়ার ফলে এই কম্পন। তবে সাধারণ মানুষের সংশয় কাটছে না। এটি নিছকই প্রাকৃতিক ঘটনা, নাকি পর্দার আড়ালে কোনও গোপন সামরিক প্রস্তুতি চলছে- সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মরুশহরের আকাশে-বাতাসে।