আজকাল ওয়েবডেস্ক: সৌদি আরবের চাপেই ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (১ মার্চ, ২০২৬) চমকপ্রদ এই তথ্য ফাঁস করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সৌদি আরব মুখে কূটনীতির কথা বললেও ইরানে হামলা করার জন্য গোপনে ওয়াশিংটনকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল!
ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সৌদি আরব ও ইজরায়েল লাগাতার চাপ দিচ্ছিল। ফলে 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর প্রতিবেদনে সৌদিকে আমেরিকার ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মিত্র জুটি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চারটি সূত্র উদ্ধৃত করে এই সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি-ইজরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টা ট্রাম্পকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ইরানের ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য অভিযান চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান গত মাসে একাধিকবার ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানে হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে অনবরত কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলেছিলেন। একই সময়, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাপ দিচ্ছিলেন।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ছিল, ইরানের বাহিনী আগামী এক দশকের মধ্যে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হুমকি তৈরি করবে না। তবুও সৌদি-আরব ইজরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রভাবিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার ভোরের ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই ও অন্যান্য শীর্ষ ইরানিকর্মকর্তারা নিহত হন।
কেন হামলার পক্ষে সৌদি আরব চাপ দিচ্ছিল?
'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর খবর অনুসারে, সৌদি নেতৃত্ব মূলত নিজ দেশের তেল পরিকাঠামোকে রক্ষা করতে মরিয়া। তারা তেহরানকে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে। ফলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানে হামলার পক্ষে ছিলেন।
সৌদিতে ইরানি ক্ষেপনাস্ত্র হামলা:
হামলার পরে ইরান, সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে প্রতিশোধ নেয়। এরপর সৌদির বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে জানায়, 'সৌদি আরব এই নির্মম ও কাপুরুষোচিত ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা করছে।' আরব নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের হামলার পর, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুবরাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, বাহরিনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল-খলিফা, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, কুয়েতি আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ এবং জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন। রিয়াদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও দৃঢ় পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
হামলা চালানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আবুধাবি ও দুবাই এবং কাতারের দোহা-তেও। ফলে নয়া সংঘাতের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে।
