আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডেনমার্ক বারবার বলে চলেছে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রকার গোঁ ধরেই ফেলেছেন আর্কটিক অঞ্চলটি কেনার জন্য। এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে যে ট্রাম্প এবং তাঁর উপদেষ্টারা গ্রিনল্যান্ডের ক্রয় প্রক্রিয়া কাল্পনিক ভাবে কেমন হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের বাস এখানে। যাঁদের বেশিরভাগই ইনুইট সম্প্রদায়ের। এখানে ইতিমধ্যেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নৌপথ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

যদিও ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে অনুসন্ধানমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবুও প্রশ্ন ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান তাহলে সেই চুক্তির মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এটি কি আদৌ সম্ভব?

ডাচ ব্যাঙ্ক এবিএন আমরোর প্রধান অর্থনীতিবিদ নিক কুনিস রয়টার্সকে বলেছেন, “দেশ কেনাবেচার কোনও বাজার নেই।” তিনি উল্লেখ করেছেন, সার্বভৌম বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ওপর মূল্য নির্ধারণের জন্য কোনও স্বীকৃত কাঠামো নেই।

ইতিহাস কী বলছে?

১৯৪৬ সালে আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডের কেনার জন্য ডেনমার্ককে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। যা কোপেনহেগেন প্রত্যাখ্যান করেছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করলে বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার।  কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উভয় দেশের অর্থনীতির নাটকীয় প্রবৃদ্ধির কারণে এই অঙ্কটি বর্তমানে অর্থহীন। এই ক্রয় প্রচেষ্টা আগের আলাস্কা ও লুইজিয়ানার মতো মার্কিন অধিগ্রহণগুলির সঙ্গে তুলনা করাও ঠিক নয়। কারণ, সেই চুক্তিগুলিতে বিক্রেতা ইচ্ছুক ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।

আরও একটি উপায় হতে পারে অর্থনৈতিক উৎপাদনের ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ডকে একটি সংস্থার মতো মূল্যায়ন করা। কিন্তু ডেনমার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, মূলত মৎস্যশিল্পের ওপর নির্ভরশীল গ্রিনল্যান্ডের জিডিপি ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের সরকারি বাজেটের প্রায় অর্ধেক অর্থ সাহায্য করে। যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পরিকাঠামোর মতো পরিষেবাগুলিতে কাজে লাগানো হয়। ডেনমার্কের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তথ্যে সেই হিসেব ধরা নেই। 

গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা এখনও অসম্পূর্ণ। তবুও অনুমান, গ্রিনল্যান্ডে শত শত কোটি বিলিয়ন মার্কিন ডলারের খনিজ মজুত রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ইউরোপীয় কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ৩৪টি খনিজের মধ্যে ২৫টিই গ্রিনল্যান্ডে আছে।

পরিবেশগত কারণে তেল ও গ্যাস উত্তোলন নিষিদ্ধ। খনি প্রকল্পগুলি আদিবাসী সম্প্রদায়ের তরফ থেকে তীব্র বিরোধিতা সম্মুখীন হয়েছে। আপাতত, ডেনমার্ক বলছে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। আমেরিকা বলছে, সব পথ খোলা রয়েছে এখনও।