আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের এসফাহান প্রদেশের জনমানবহীন ধূ ধূ মরুভূমি আর পাথুরে পাহাড়ের বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তাগুলোর বর্তমান চেহারা দেখে যে কেউ শিউরে উঠবেন। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া নতুন কিছু ছবি এখন এক রহস্যময় ও ভয়ঙ্কর যুদ্ধের সাক্ষী দিচ্ছে। গত রবিবার নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিল টিম সিক্স’ যখন ইরানের ২০০ মাইল ভেতরে এক দুঃসাহসিক অভিযানে নামে, তখন সেই এলাকাটিকে আক্ষরিক অর্থেই বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এয়ারবাসের পাঠানো উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটির চারপাশের প্রধান সড়কগুলোতে অন্তত ২৮টি বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি করা হয়েছে। একেকটি গর্ত প্রায় ৯ মিটার চওড়া, যা আস্ত একটি রাস্তাকে দ্বিখণ্ডিত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনও সাধারণ গোলাবর্ষণ ছিল না, বরং অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই গর্তগুলো করা হয়েছিল যাতে ইরানি বাহিনী কোনওভাবেই উদ্ধারস্থলে পৌঁছাতে না পারে।
গত শুক্রবার যখন মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি মাটিতে পড়ে যায়, তখন একজন বৈমানিক উদ্ধার পেলেও দ্বিতীয়জন অর্থাৎ একজন কর্নেল নিখোঁজ হয়ে যান। প্রায় দুই দিন ধরে তিনি ইরানের বিপদের পরিবেশে আত্মগোপন করে ছিলেন। তাকে খুঁজে বের করতে ইরান যখন বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, তখনই অন্ধকার চিরে নেমে আসে মার্কিন কমান্ডোরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে এই অভিযানের সফলতার কথা ঘোষণা করে বলেন, "আমরা তাকে পেয়েছি!" সামরিক ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শত্রুপক্ষের সীমানার এত গভীরে ঢুকে দুজন পাইলটকে আলাদাভাবে এবং অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে আনা হয়েছে। তবে এই উদ্ধারকার্য মোটেও সহজ ছিল না। উদ্ধারকারী দল যখন নিচে কাজ করছিল, তখন আকাশ থেকে ডজন ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান চারপাশ ছাই করে দিচ্ছিল যাতে ইরানি সেনারা কাছে ঘেঁষতে না পারে।
এই অভিযানের কৌশল নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। অস্ট্রেলিয়ার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মিক রায়ান সিএনএন-কে বলেছেন, আমেরিকার সামরিক বাহিনী ছাড়া বিশ্বের আর কারও পক্ষে এমন নিখুঁত এবং জটিল অপারেশন চালানো সম্ভব নয়। যদিও ইরান এই পুরো বিষয়টিকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ছবি শেয়ার করে উপহাস করে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে আরও তিনটি জয় পায়, তবে তারা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।" তবে উপহাসের আড়ালে একটি বড় প্রশ্ন ঝুলে আছে—আমেরিকার এত অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ইরান মাটিতে নামাল কীভাবে? একদিকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই মরুভূমি এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার লাভা যেকোনও মুহূর্তে পুরো বিশ্বকে গ্রাস করতে পারে। এই সফল উদ্ধার অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য সাময়িক স্বস্তি আনলেও, মাটির বুকে পড়ে থাকা ওই ২৮টি গর্ত আসলে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধেরই পদধ্বনি দিচ্ছে।
















