আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান সরকারের মধ্যে এক অদ্ভুত ‘বাকযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সংঘাত মেটানোর আলোচনা শুধু শুরুই হয়নি, বরং ইরানি নেতৃত্ব তাঁকে দেশটির ‘পরবর্তী সুপ্রিম লিডার’ হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে! ট্রাম্পের দাবি, ইরান চুক্তির জন্য এতটাই মরিয়া যে তারা তাঁকে এই পদের জন্য অনুরোধ করেছে, যদিও তিনি তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে স্রেফ ‘পাগলামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি তীব্র কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প কি এখন নিজের সাথেই নিজে কথা বলছেন? তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানের কোনও  প্রতিনিধি আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনায় বসেনি এবং ভবিষ্যতেও বসবে না। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোও একে ভিত্তিহীন প্রচার বলে দাবি করেছে।

পর্দার আড়ালে খবর চাউর হয়েছে যে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ এবং হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীকে সমর্থন না দেওয়ার শর্ত রয়েছে। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাব তো মানছেই না, বরং তারা নিজেদের একগুচ্ছ পাল্টা শর্ত আমেরিকার ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। গত এক মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান সংঘাতের মাঝে এই পাল্টাপাল্টি বয়ান এখন পরিস্থিতিকে আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে। একদিকে ট্রাম্প বলছেন আলোচনা তুঙ্গে, অন্যদিকে ইরান বলছে আলোচনার অস্তিত্বই নেই।