আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ এখন চরম উত্তেজনার শিখরে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরুপের তাস এখন হরমুজ 'অবরোধ'।
আমেরিকার বিশ্বাস, ইরানের বন্দরগুলো চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে শেষ পর্যন্ত মাথা নোয়াতে বাধ্য হবে তারা। কারণ, এই অবরোধের জেরে দেশের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের তেল রাখার জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসবে। ফলত চাপের মুখে বন্ধ হয়ে যাবে ইরানের তেলকূপগুলো।
পারস্য উপসাগরের এই প্রণালী ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই বন্দর দিয়েই বিদেশে পাড়ি দেয়। ফলে এখানে টান পড়া মানেই ইরানের রাজকোষে বিরাট ধস।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বেজেছে। তার প্রভাব কার্যত গোটা বিশ্বে। এই পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সেই বিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধে তিনি এখনই বড় কোনও সামরিক অভিযানে যাচ্ছেন না।
ইরান যাতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে, তার জন্যই এই বাড়তি সময়। পাশাপাশি ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, আপাতত বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারা ও অবরোধ চলবেই।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও সুর চড়িয়েছেন। তাঁর মতে, চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেহরান এখন কোণঠাসা। বন্দর বন্ধ থাকায় ইরানের ভাণ্ডার যেমন শূন্য হবে, তেমনই কালোবাজারি বা গোপনে লেনদেন করা জাহাজগুলোও সঙ্কটে পড়বে৷
পাল্টা দিতে ছাড়েনি ইরানও। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে তারা। ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ নিয়ে অনড়৷
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি এখন ইরানের দখলে। মাঝে কিছুক্ষণের জন্য এই পথ খুলে দেওয়া হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে ইরান ফের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেই দিকেই তাকিয়ে কূটনৈতিক মহল।















