আজকাল ওয়েবডেস্ক: শান্তি নয়, বরং যুদ্ধের দামামা। বৈঠকের পর হিতে বিপরীত হল কিনা সেই নিয়েই এখন আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইসলামাবাদ বৈঠক’ ভেস্তে যায়। এর পর আবারও সংঘাতের পথে দুই দেশ।
ইরানের দাবি, তারা শান্তি চুক্তির একবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমেরিকার ‘দাদাগিরি’ আর ‘অযৌক্তিক শর্তের’ বেড়াজালে ভেস্তে গিয়েছে সব আলোচনা।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, প্রায় ৪৭ বছর পর দু’পক্ষ এই পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেছিল। ইরান যুদ্ধের ইতি টানতে অত্যন্ত সদিচ্ছা দেখালেও হোয়াইট হাউসের তরফে বারবার ‘লক্ষ্যবদল’ করা হয়েছে। আরাগচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "সদিচ্ছা থাকলে আমরাও এগোতাম। কিন্তু শত্রুতার বদলে কেবল শত্রুতা।"
পিছিয়ে নেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও। ট্রাম্প প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি তাদের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাব ত্যাগ করে এবং ইরানকে সম্মান দিতে শেখে, তবেই আলোচনার পথ খোলা থাকবে।
অন্যদিকে, শান্তি আলোচনার মাঝেই পাল্টা চাপ সৃষ্টি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই ইরানের সমস্ত বন্দরে নৌ-অবরোধ শুরু করবে আমেরিকা। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের কোনও জাহাজ যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না।
আমেরিকার এই হুঁশিয়ারিকে অবশ্য পাত্তাই দিচ্ছে না ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, "আমেরিকা যদি লড়াই চায়, তবে ইরানও লড়তে প্রস্তুত। আর যদি তারা যুক্তিতে আসে, তবেই যুক্তির কথা হবে।" তাঁর সাফ কথা, চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না ইরান। আমেরিকা চাইলে তাদের শক্তির পরীক্ষা নিতে পারে, তবে তার ফল ভয়াবহ হবে।
ফলস্বরূপ শান্তি ফেরার বদলে পারস্য উপসাগরে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ। দুই শক্তির এই অনড় অবস্থানে ঘুম উড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।















