আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক। এই আলোচনা ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা। গত শনিবার হরমুজ প্রণালী থেকে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ মার্কিন সেনারা কব্জা করায় পরিস্থিতি আগের চেয়ে জটিল হয়ে উঠেছে। ক্ষুব্ধ তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন হুমকির পরিবেশে তারা নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। 

বুধবার দুই দেশের মধ্যেকার 'অস্থায়ী' যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই মেয়াদের সময়সীমা আর বাড়ছে না। ইরান মনে করছে, আমেরিকা আসলে আলোচনার আড়ালে তাদের কোণঠাসা করতে চাইছে। হোয়াইট হাউসের এই ‘অবরোধের রাজনীতি’  নতুন করে যুদ্ধ বাধানোরই ছক।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার তথা শীর্ষ আলোচক মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁরা চাপের মুখে কোনওভাবেই মাথা নত করবেন না। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, "হুমকির মুখে বসে কথা হবে না।" ঘালিবাফের এই হুঁশিয়ারি মূলত আমেরিকা ও ইজরায়েলের দিকেই। 

শান্তি বজায় রাখার কথা মুখে বললেও, হরমুজ প্রণালীর দখল নিয়ে দুই পক্ষই পিছু হটতে নারাজ। বিশ্বের খনিজ তেল পরিবহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরেই যাবতীয় গোলমাল। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাচ্ছে। প্রথমে মঙ্গলবার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা খানিক পিছিয়েছে৷ 

একদিকে, আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ট্রাম্পের একটি মন্তব্য আগুনে ঘি ঢেলেছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, বুধবারের মধ্যে যদি শান্তি চুক্তি না হয়, তবে চারিদিকে কেবল "বোমা ফাটতে শুরু করবে।" ট্রাম্পের কথায়, "ওরা যদি আলোচনায় না আসে, তবে সেটা ওদের ব্যাপার। চুক্তি না হলে আমরা আমাদের পথ দেখে নেব।"

ইরানি কর্তাদের দাবি, চুক্তির খসড়া প্রায় তৈরি ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের উদ্ধত আচরণ সব ভেস্তে দিচ্ছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাক মধ্যস্থতাকারীরাও আমেরিকাকে সতর্ক করেছেন। 

ইসলামাবাদ চায়, দুই পক্ষই যেন সংযত হয়ে কথা বলে। একইসঙ্গে এ কথাও তারা জানিয়েছে যে এই আলোচনাকে যেন 'কারও হার বা কারও জিত' হিসেবে না দেখা হয়। নাহলে পশ্চিম এশিয়ার শান্তির সম্ভাবনা বিশ বাঁও জলে।