আজকাল ওয়েবডেস্ক: এখনই ক্ষমা চাইতে হবে ট্রাম্পকে। স্পষ্ট জানালেন ইরানি ধর্মগুরু আলি শিরাজি৷ পরমাণু অস্ত্র কেন? সাধারণ আক্রমণেই ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হয়েছে। এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর থেকেই পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ডামাডোল। 

এই আবহে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে জব্দ করতে তাঁর আর পরমাণু বোমার প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, “ওদের নৌবাহিনী, বায়ুসেনা সব শেষ। কেন মিছিমিছি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করব?”

এদিকে খামেনেই-এর হত্যার বদলা নিতে অনড় ইরান। প্রবীণ ইরানি ধর্মগুরু আলি শিরাজি সরাসরি ট্রাম্পের ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক তরজা তুঙ্গে। ভারত ও চীনকে ‘নরক’ বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, তার কড়া জবাব দিয়েছে হায়দরাবাদের ইরানি দূতাবাস। তাদের পাল্টা দাবি, ভারত বা চীন নয়, বরং যে দেশের প্রেসিডেন্ট অন্য সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন, সেই দেশই আসলে নরক।

আবার পশ্চিম এশিয়ায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে একের পর এক পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে আমেরিকা। ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ এবং ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর পর এবার ভারত মহাসাগরে পৌঁছে গিয়েছে ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইরানের দোরগোড়ায় তিনটি বিশাল মার্কিন রণতরী মোতায়েন রয়েছে।

পাশাপাশি, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে৷ তবে এখনই সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। শুক্রবার সকালেও দক্ষিণ লেবাননে বিমান হানা চালিয়েছে ইজরায়েল।

অন্য দিকে, পাকিস্তানে আমেরিকা-ইরানের শান্তি বৈঠকও ভেস্তে যাওয়ার মুখে। নিজেদের পরমাণু অধিকারের দাবিতে অনড় থেকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা আপাতত কোনও আলোচনায় বসছে না।