আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে টানটান উত্তেজনা৷ ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের মেঘ আপাতত কাটলেও দু’দেশের মধ্যে আলোচনার পথ এখনই খুলছে না।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান একটি ‘সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব’ না দেওয়া পর্যন্ত কোনওরকম বৈঠকে বসছেন না তাঁরা।
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, মূলত মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের 'পুরাতন' মেজাজেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ যেমন ছিল, তেমনই জারি থাকবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, "সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে বলেছি। ইরান প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতিই চলবে।"
অন্যদিকে, তেহরানও পাল্টা চাপের নীতি নিচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি অভিযোগ তুলেছেন, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘তুসকা’ আটকে রেখেছে। নাবিক ও তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে ইরান।
ইরানের সংবাদমাধ্যম আবার দাবি করেছে, তারা নিজে থেকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কোনও অনুরোধ করেনি। তেহরানের সাফ কথা, আমেরিকার নৌ-অবরোধ না উঠলে তারা কিছুতেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে দেবে না। অর্থাৎ, গত ৭ এপ্রিল দুই পক্ষ সাময়িক স্বস্তির কথা বললেও, পরমাণু কর্মসূচি ও নানা শর্ত নিয়ে জটিলতা যে অনিশ্চয়তায় ছিল, সেইখানেই রয়ে গেল।















