আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাতেই ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তি নতুবা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই পাল্টা জবাব দিল ইরান। ট্রাম্পের এই ডেডলাইন 'অসহায়, বোকা' পদক্ষেপ বলেই দাগিয়ে দিল তারা।
রবিবার ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জেনারেল আলি আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘অসহায়, উম্মত্ত, ভারসাম্যহীন এবং একটি নির্বোধ পদক্ষেপ’ হিসেবে জানিয়েছেন।
জেনারেল আলি আবদুল্লাহি আরও জানিয়েছেন, ইরানের জাতীয় সম্পদে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল হামলা করে, তাহলে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত ঘাঁটি, ইজরায়েলের সব দপ্তরে ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশের অধিকার ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পাল্টা হামলা করতে দু'বার ভাববে না ইরানের সেনাবাহিনী।
শনিবার ট্রাম্পের বক্তব্য, 'মনে আছে নিশ্চয়ই, আমি দশ দিন সময় দিয়েছিলাম, হয় চুক্তি করতে হবে, নতুবা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে। সময় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে। আর দু'দিন বাকি। ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুলে দিলে নড়কে পরিণত হবে ইরান।'
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জ্বালানি পরিকাঠামোয় মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে সাত দিনের বিরতি চেয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প সেই সময়সীমা দশ দিন বাড়িয়ে দেন। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়। সেই সময় শেষ হতে আর দু'দিন বাকি। ইরানকে এদিন মনে করিয়ে দিলেন ট্রাম্প।
গত ২৩ মার্চ প্রথমবার ইরানকে দু’দিনের সময় বেঁধে দেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পোস্টে জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। নতুবা ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করে দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পোস্ট থেকেই ৪৮ ঘণ্টার কাউন্টডাউন শুরু বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী কোনও হুমকি ছাড়া খুলে না দেয়, তাহলে ফের ভয়ঙ্কর আঘাত করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আঘাত করেই এই হামলা শুরু হবে।"
এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে টানা দু’দিন ব্যাপী আলোচনা করেছেন তিনি। বর্তমান যুদ্ধকালীন উত্তাল পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন তারপর। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরান সরাসরি অস্বীকার করেছে। পরে গত ২৬ মার্চ সেই সময়সীমাই আরও বাড়িয়ে দশ দিন করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে ৩ মার্চ থেকে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাসের দাম বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে হরমুজ় প্রণালী খোলা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। এমনকী যুদ্ধ আর বেশিদিন চালিয়েও যেতে চান না ট্রাম্প।
















