আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের মাঝে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন WHO-এর মহাপরিচালক। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের কেন্দ্রে কোনও হামলা হলে তা মারাত্মক পারমাণবিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যার প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে।
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক পোস্টে টেড্রোস বলেন, তিনি IAEA-এর সঙ্গে একমত হয়ে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ইরানের পরমানু কেন্দ্রে কোনও হামলা হলে তা পারমাণবিক দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে, যার স্বাস্থ্যগত প্রভাব বহু প্রজন্মকে বিপর্যস্ত করবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এই সংঘাত যত বাড়ছে, ঝুঁকিও তত বেড়ে চলেছে। তাই অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শান্তিই সর্বোত্তম ওষুধ।”
অন্যদিকে, IAEA-ও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি প্রজেক্টাইল বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি আঘাত হানে। এতে ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য শেল বা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নিহত হন। এছাড়া, বিস্ফোরণের অভিঘাতে একটি ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হল, এই হামলার পরও কেন্দ্রের আশেপাশে রেডিয়েশনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। IAEA জানিয়েছে, পারমাণবিক প্ল্যান্টের মূল অংশ অক্ষত রয়েছে এবং এর কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।
IAEA-র মহাপরিচালক এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা তার আশেপাশে কোনও ধরনের সামরিক হামলা কখনওই হওয়া উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনকি পার্শ্ববর্তী সহায়ক ভবনগুলিতেও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকতে পারে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সংঘাতের সময় পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সাতটি মূল নীতি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, তিনি সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান, যাতে কোনওভাবেই পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি না হয়।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইরান এবং তার বিরোধী শক্তির মধ্যে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। একাধিক হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য ভুল বা দুর্ঘটনাও বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
&t=2s
সব মিলিয়ে, WHO এবং IAEA-র এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি কতটা সংযম দেখায় এবং সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে কী পদক্ষেপ নেয়।















