পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে ইরানে টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, এটি বিশ্বের ইতিহাসে কোনও দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্তরের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।
2
9
রবিবার এক পোস্টে জানা গিয়েছে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার সময়সীমা ইতিমধ্যেই ৩৭ দিনে পৌঁছেছে, যা ৮৬৪ ঘণ্টারও বেশি। এই ব্ল্যাকআউট তীব্রতার দিক থেকেও অতীতের সমস্ত ঘটনার তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর।
3
9
এই পরিস্থিতির সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে তেহরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। তার পরপরই ইরান সরকার আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সেখানে কার্যত একটি ‘ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক’-এর ওপর নির্ভর করছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার নেই।
4
9
ইরান এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত অ্যাক্সেস চালু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ‘হোয়াইটলিস্টিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।
5
9
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দীর্ঘমেয়াদি বা আংশিক ইন্টারনেট বন্ধের নজির রয়েছে, তবে ইরানের ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর কোরিয়া কখনওই বিশ্বের ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, ফলে তাদের বিচ্ছিন্নতা ভিন্ন ধরনের।
6
9
যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও সাধারণত পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায় না। যেমন ইউক্রেন বা গাজাতে কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সংযোগ কমে গেলেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়নি। সেই তুলনায় ইরানের সিদ্ধান্ত একেবারেই ব্যতিক্রমী।
7
9
বর্তমানে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েল সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে মিসাইল ও ড্রোন হামলায় একে অপরকে লক্ষ্যবস্তু করছে উভয় পক্ষ। তেহরানও পাল্টা আঘাত হানছে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে।
8
9
এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেশের অভ্যন্তরে তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
9
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি দেশকে ডিজিটালি বিচ্ছিন্ন করে রাখা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলির জন্যও এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে—যেখানে যুদ্ধের সময় ডিজিটাল অবরোধ একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।