আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধ।আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হল ইরানের। রবিবার সকালেই কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার একটি নৌঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে ইরানের সেনাবাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, তাদের এই হানায় মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে বহু সেনার। যদিও ওয়াশিংটন এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি মানতে নারাজ।

গোটা ঘটনার মূলে রয়েছে ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা জোটের সাম্প্রতিক সংঘাত। সূত্রের খবর, গত রাতে ইরান জুড়ে ব্যাপক বিমান হানা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলাতেই তেহরানে নিজের দপ্তরে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ৮৬ বছর বয়সি আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’। এই ঘটনাকে ‘বড় অপরাধ’ বলে দেগে দিয়ে ইরানের মন্ত্রিসভা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে জারি করা ‘৪ নম্বর বিবৃতিতে’ জানানো হয়েছে কুয়েতের আবদুল্লাহ মুবারক এলাকায় ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। জেবেল আলি বন্দরে আমেরিকার একটি অস্ত্রবাহী জাহাজকে বিকল করে দিয়েছে ইরানি ড্রোন। একইসঙ্গে জ্বালানিবাহী একটি যুদ্ধজাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

 

পাল্টা হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খামেনেই নিকেশ হওয়ার পর এবার ইরানের সাধারণ মানুষের উচিত নিজেদের দেশের ক্ষমতা দখল করা। তবে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। কুয়েতের পাশাপাশি বাহারিন এবং কাতারেও একের পর এক হামলা চালিয়েছে তারা। সৌদি আরব এবং দুবাই থেকেও একের পর এক অশান্তির খবর আসছে।

এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাক, কুয়েত ও ইজরায়েলে কয়েক হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাজারেও। তেলের দাম কমার বদলে হু হু করে বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।