আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে উত্তাল মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া। একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে গত ১২ এপ্রিল দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, এক মহিলা পবিত্র কোরআন শরিফের ওপর পা রেখে দাঁড়িয়ে শপথ করছেন। এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে ইন্দোনেশিয়ার কঠোর ধর্ম অবমাননা আইনের আওতায় তাঁদের অন্তত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ এপ্রিল রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে বান্তেন প্রদেশের লেবাক এলাকার একটি বিউটি পার্লারে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, ওই পার্লারের মালকিন তাঁর এক অতিথির বিরুদ্ধে জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ আনেন। অভিযুক্ত মহিলা বারবার চুরির কথা অস্বীকার করলে পার্লার মালকিন তাঁকে পবিত্র কোরআনের ওপর পা রেখে শপথ করে নির্দোষ প্রমাণ করতে বাধ্য করেন। শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনার ভিডিও করে রাখা হয়।

পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত তদন্তে নামে বান্তেন পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র মারুলি আহিলেস হুতাপিয়া জানিয়েছেন, যে মহিলা কোরআনের ওপর পা রেখেছিলেন এবং যিনি তাঁকে এই কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন—উভয়কেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং পুলিশ তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ওই দুই মহিলার নাম বা বয়স প্রকাশ করা হয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার কঠোর ধর্ম অবমাননা আইন অনুযায়ী, দেশটির ছয়টি স্বীকৃত ধর্মের কোনওটি সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা বা কোনও  ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্ক থাকলেও ইন্দোনেশিয়ায় ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নে প্রশাসন বরাবরই আপসহীন। বর্তমানে ধৃত দুই মহিলাই শ্রীঘরে রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বান্তেন প্রদেশসহ গোটা দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।