আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৫০ দিন ইরানে কারারুদ্ধ ছিলেন তিনি। তারপর ছাড়া পান ২৭ ফেব্রুয়ারি। দেশে ফেরার কথা ছিল সেদিনই। কিন্তু তারপরের দিনই আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণ আছড়ে পড়ে ইরানে। ফলে তিনি আবারও আটকে পড়েন। তারপর কেটে গিয়েছে আরও ২৫ দিন। ফিরলেন দেশে। দিল্লির গাজিয়াবাদবাসি কেতন মেহতা।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “ছাড়া পাওয়ার পরে আমাদেরকে আবার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হল। আমাদের কোনও ধারণাই ছিল না যে যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে। আর ঠিক তার পরের দিন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। আমরা তো পুরো অবাক! চোখের নিমেষে সব কিছুই বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি বিমানবন্দরও বন্ধ হয়ে গেল।”
তাঁর কথায়, বান্দর আব্বাস শহরের বন্দরঘাট থেকে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার দূরেই তাঁরা ছিলেন। ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি এই বন্দর। ফলে এই বন্দরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের শুরু থেকেই প্রচুর আক্রমণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, “আমরা যখন ভারতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তাঁরা স্পষ্ট আমাদের হোটেলের বাইরে যেতে মানা করল। জানালেন যুদ্ধের কথা। দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে। আমরা বেরতে পারছি না। আর দিন-রাত শুধু বোমা পড়ার আওয়াজ। হোটেলের জানলা অল্প খুললেই দেখছি বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র এসে আছড়ে পড়ছে। চোখের সামনে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
নিজের ঘরের নীল সোফায় হেলান দিয়ে বসে তিনি আরও বলেন, “দিনে অন্তত ২০০টির কাছাকাছি বোমা তো পড়তই”। তিনি বুঝতে পারছিলেন বাড়ি ফেরার রাস্তাটা আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, বাসে করে তিনি প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছিলেন আরমেনিয়ায়। প্রায় ১৮-১৯ ঘন্টার এই যাত্রা তাঁর কতখানি উদ্বেগের মধ্যে কেটেছিল, সে কথাও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
তিনি বলেন, “যাওয়ার পথে শুধু বোমা পড়ার আওয়াজ। সেই আওয়াজ আবার পাহাড়ে ধাক্কা লেগে ফিরে ফিরে আসছে। একটা বোমার আওয়াজ শেষ হওয়ার আগে আর একটা বোমা পড়ছে। আর যতবার বোমা পড়ছে বাস কেঁপে কেঁপে উঠছে। ভয়ে আমার হাত-পা সিঁধিয়ে গিয়েছিল। কোনও ভাবে আরমেনিয়া সীমান্তে পৌঁছতে পারলে হয়। মনে মনে শুধু এইটুকুই প্রার্থণা করছিলাম।” তবে এই দুর্ঘটনার মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে সবসময়ই যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে তিনি জানান।
৮ ডিসেম্বর ইরান কর্তৃপক্ষ একটি তেলবাহী জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেন। তাঁদের বক্তব্যে জাহাজটি বেআইনি ছিল। তাই আন্তর্জাতিক জলসীমানায় জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযোগ ওঠে, জাহাজটি দুবাই থেকে বেআইনি ডিজেল নিয়ে যাচ্ছিল। যদিও অভিযুক্ত কোম্পানি এই অভিযোগ নস্যাৎ করে। জাহাজের ১০ জন ভারতীয় কুশলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কেতন একজন। ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।















