আজকাল ওয়েবডেস্ক:  সম্প্রতি জার্মান নিউজ ম্যাগাজিন 'দের স্পিগেল'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ফার্নান্দেস তার প্রাক্তন স্বামী ক্রিশ্চিয়ান উলমেনের বিরুদ্ধে অনলাইনে তার ভুয়ো এবং আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ ডিপফেক ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ আনেন। এই ঘটনা জার্মানির আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। একই সাথে এই সংবেদনশীল ইস্যুতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন খাড়া করেছে।

অভিযুক্ত প্রাক্তন স্বামী ক্রিশ্চিয়ান উলমেন অবশ্য সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার হাইপ্রোফাইল আইনজীবী ক্রিশ্চিয়ান শের্টজ এবং সাইমন বার্গম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে উলমেন কখনো কোনও  ডিপফেক তৈরি করেননি এবং এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উলমেনের আইনি দল এই প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেহেতু উলমেন এবং ফার্নান্দেস দীর্ঘ বছর ধরে জার্মানির অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সেলিব্রিটি জুটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাই তাদের ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি লড়াই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেরও মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তবে এই মামলার আইনি পরিণতি যা-ই হোক না কেন, এটি জার্মানির অপরাধমূলক আইনে ডিজিটাল সহিংসতার ক্ষেত্রে থাকা চরম দুর্বলতাগুলোকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

বর্তমানে এই ঘটনার জেরে জার্মানির রাজনীতি, ব্যবসা ও সংস্কৃতি জগতের ২৫০ জন বিশিষ্ট মহিলা একজোট হয়ে ১০ দফা দাবি পেশ করেছেন। এই জোটে রয়েছেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (SPD) শ্রমমন্ত্রী বারবারা ব্যাস, র‍্যাপার ইক্কিমেল এবং পরিবেশ আন্দোলনকারী লুইসা নয়বাউয়ারের মতো ব্যক্তিত্বরা। তাদের মূল দাবি হল—সম্মতিহীন যৌনতাপূর্ণ ডিপফেক তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াকে অবিলম্বে একটি স্পষ্ট ও কঠোর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হোক। চাপের মুখে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী স্টেফানি হুবিগ ইতিমধ্যেই আইন পরিবর্তনের খসড়া পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার অধীনে এই ধরণের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হতে পারে। বর্তমান জার্মান আইন অনুযায়ী, কেবল ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি শাস্তির আওতাভুক্ত করা যায়, তবে তা-ও ব্যক্তির নিজস্ব ছবির অধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল।

ফার্নান্দেসের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বড়দিনের দিন উলমেন নিজের মুখে স্বীকার করেছিলেন যে তিনিই ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট খুলে এই জাল ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়াচ্ছিলেন। এই মানসিক আঘাতকে তিনি "নিজের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সমতুল্য" বলে বর্ণনা করেছেন। ফার্নান্দেস ইতিমধ্যেই স্পেনের আদালতে এই বিষয়ে হুমকি এবং নির্যাতনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন, কারণ তার মতে জার্মানির চেয়ে স্পেনের লিঙ্গভিত্তিক হিংসা বিরোধী আইন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং জার্মানিকে তিনি এক প্রকার "অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য" বলে কটাক্ষ করেছেন। এদিকে জার্মানির ইৎজেহো অঞ্চলের সরকারি প্রসিকিউটর অফিস এই মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করেছে। এর আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণের অভাবে গত জুনে তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবে আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।