আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রিটেনে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক চরম নৈতিক অবক্ষয় ও পেশাগত অসদাচরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এক মহিলা রোগীকে অনৈতিকভাবে নেশাজাতীয় ওষুধ প্রেসক্রাইব করা এবং তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অপরাধে কার্ডিফের ‘ইউনিভার্সিটি হসপিটাল অব ওয়েলস’-এর কনসালট্যান্ট নিউরোসার্জন ডক্টর চিরাগ প্যাটেলকে আট মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হাসপাতালের রেকর্ড বুকে কোনও উল্লেখ না করেই ওই রোগীকে মারাত্মক আসক্তিকর পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ লিখে দিতেন।
যুক্তরাজ্যের মেডিকেল ট্রাইব্যুনালের সামনে এই পুরো ঘটনার যে বিবরণ উঠে এসেছে, তা যেকোনও সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। জানা গেছে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ওই মহিলার মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যার কারণে তিন-তিনবার অস্ত্রোপচার করেছিলেন ডক্টর চিরাগ। ওয়েলসে ওই মহিলার বিশেষ শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা করার মতো একমাত্র যোগ্য সার্জন ছিলেন তিনিই। কিন্তু বিপত্তি ঘটে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর। চিকিৎসার খাতিরে রোগীকে নিজের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন চিরাগ, যাতে প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু সেই পেশাগত যোগাযোগই একসময় ব্যক্তিগত সম্পর্কে রূপ নেয় এবং পরবর্তী ছয় মাস তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকে। এমনকি ওই চিকিৎসক রোগীকে নিজের আপত্তিকর ছবিও পাঠিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে।
পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করলে পরিস্থিতি একদম বদলে যায়। ট্রাইব্যুনালের কাছে ডক্টর চিরাগের দাবি, ওই মহিলা তাঁদের সম্পর্কের কথা সবার সামনে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। সাধের চাকরি আর সামাজিক সম্মান হারানোর ভয়েই তিনি বাধ্য হয়ে ওই রোগীকে মরফিন সালফেট এবং ডায়াজিপামের মতো কড়া ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ লিখে দিতে থাকেন। ২০২২ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালের অফিশিয়াল রেকর্ড সম্পূর্ণ এড়িয়ে এই প্রেসক্রিপশনগুলি করা হয়েছিল। ডক্টর চিরাগ নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করলেও, ব্ল্যাকমেইলের তত্ত্ব খাড়া করে পুরো দায় রোগীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন।
তবে শেষরক্ষা হয়নি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার পর ওই মহিলা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ সরাসরি মামলা দায়ের না করলেও হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টরকে বিষয়টি জানায়। বেগতিক দেখে চিরাগ নিজেও জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল বা জিএমসির কাছে নিজের অপরাধের কথা জানান। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জিএমসির আইনজীবী হ্যারিয়েট টাইগ স্পষ্ট জানান, ডক্টর চিরাগ নিজের পেশাগত পদের চরম অপব্যবহার করেছেন এবং রোগীর সুরক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বারবার এই অপরাধ করে গেছেন। এই ঘটনার জেরে কার্ডিফ অ্যান্ড ভেল ইউনিভার্সিটি হেলথ বোর্ড চিরাগকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তাঁর লাইসেন্স আট মাসের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ জারি করেছে। একজন প্রথম সারির চিকিৎসকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ব্রিটেনের চিকিৎসা মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।















