আমাদের দেশে গাছপালার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক বহু পুরনো। বিভিন্ন পুজো-পার্বণে নানা ধরনের গাছের পাতা, ফুল বা ফল ব্যবহার করা হয়। তাই অনেকেই মনে করেন, পুজোয় ব্যবহৃত সব গাছই বাড়িতে লাগানো শুভ।
2
10
বাস্তুশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এমন কিছু গাছ রয়েছে যেগুলি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার হলেও বাড়ির ভেতরে বা একেবারে কাছাকাছি লাগানো ভাল বলে মনে করা হয় না।
3
10
তেঁতুল গাছ: তেঁতুল নানা ধর্মীয় আচার ও রান্নায় ব্যবহার হলেও বাস্তুমতে বাড়ির আঙিনায় এই গাছ লাগানো অশুভ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তেঁতুল গাছের কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অকারণ ঝগড়া, মানসিক অশান্তি এবং নানা বাধা-বিপত্তি দেখা দিতে পারে। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও অনেক মানুষ এই বিশ্বাস মেনে চলেন।
4
10
বাবলা বা অন্যান্য কাঁটাযুক্ত গাছ: বাস্তুশাস্ত্র মতে, কাঁটা জীবনে বাধা ও সংঘাতের প্রতীক। তাই বাড়ির মূল প্রবেশপথ বা বসবাসের জায়গার আশপাশে এমন গাছ না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। মনে করা হয়, এই ধরনের গাছ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ ও অশান্তি বাড়াতে পারে।
5
10
মেহেন্দি গাছ: মেহেন্দি পাতা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে এবং বিভিন্ন শুভ কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রবিদের একাংশের মতে, এই গাছ বাড়ির ভেতরে লাগালে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়তে পারে। তাই অনেকেই এটিকে বাড়ির বাইরে বা অন্য কোনও জায়গায় লাগানোর পরামর্শ দেন।
6
10
বর্তমানে অনেকেরই শখের গাছ বনসাই। ছোট ছোট টবে বড় গাছকে বিশেষ পদ্ধতিতে সীমিত আকারে রাখা হয়। দেখতে অত্যন্ত সুন্দর হলেও বাস্তুশাস্ত্রে বনসাইকে উন্নতির পথে বাধার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
7
10
বনসাই গাছে একটি গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে দেওয়া হয়। সেই কারণে অনেকের বিশ্বাস, বনসাই বাড়িতে রাখলে জীবনের অগ্রগতিও থমকে যেতে পারে।
8
10
এছাড়া বাড়িতে শুকিয়ে যাওয়া বা মৃত গাছ কখনও রাখা উচিত নয় বলেও মনে করা হয়। শুকনো গাছ নাকি নেতিবাচক শক্তি, হতাশা এবং স্থবিরতার প্রতীক। তাই কোনও গাছ শুকিয়ে গেলে দ্রুত সেটি সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
9
10
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এসব ধারণা মূলত বাস্তুশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
10
10
গাছ লাগানোর সময় পরিবেশের উপকারিতা, পর্যাপ্ত জায়গা এবং গাছের পরিচর্যার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সবুজ গাছপালা বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।