আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুগ্মভাবে সংস্থা শুরু করেছিলেন। তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন তা। আবার সাফল্যের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সেই সংস্থা বিক্রি করে দিয়েছেন ৯৭৫মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যার ভারতীয় মূল্য কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এবার এই বিপুল অনেক টাকা নিয়ে কী করবেন তিনি বাকি জীবনে। চিন্তায় পড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক।
বিনয় হীরামাথ। লুম-এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ দেখলেই বোঝা যাবে, একজন ফসল স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি শুধু সফলই নন, সফলতার উদাহরণ। সবকিছু ঠিক চলছিল। তার মাঝেই ২০২৩ সালে সিদ্ধান্ত নেন, সংস্থা বিক্রি করে দেওয়ার। দেনও তাই। হাতে আসে কোটি কোটি টাকা। তারপরেই পড়েছেন চিন্তায়।
‘আমি ধনী, কিন্তু জানি না জীবনে কী করব আমি’ এই শীর্ষক তিনি একটি ব্লগ লিখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই জীবনে তিনি বুঝে গিয়েছেন, আর টাকা রোজগারের জন্য কখনও কাজ করবেন না। কিন্তু কী করবেন এরপর? তা ভেবেই বেজায় চিন্তায় তিনি। লিখেছেন, সংস্থা বিক্রি করার পর এখন অনেক টাকা তাঁর হাতে। কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ টাকা নিয়ে এবার তিনি জীবনে বাকি দিনগুলি কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না কিছুতেই।
ওই ব্লগে যুবক তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। লিখেছেন, তাঁর কারণেই দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী, প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক টেকেনি। ব্লগে প্রাক্তন প্রেমিকার উদ্দেশে লিখেছেন, ‘যদি আমার প্রাক্তন এই ব্লগ পড়ছে, সবকিছুর জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তুমি যা চেয়েছিলে, আমি তাই হতে পারিনি। আমি দুঃখিত।‘ এই সময়ে তাঁর কাছে আবার চাকরির সুযোগ এসেছে। তিনি তাও গ্রহণ করতে পারেননি মন থেকে। তিনি পরবর্তীতে রোবোটিক্স সংস্থা তৈরি করে চেয়েছিলেন। বেশকিছু বিনিয়োগকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু সেসব বৈঠকও খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। মাঝে কিছুদিন ইলন মাস্ক এবং বিবেক রামাস্বামীর হয়ে কাজও করেছেন। সেই সময়ের চমৎকার অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন ব্লগে।
বিপুল উদ্দমে হিমালয়ে গিয়েছিলেন। কোনওপ্রকার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফিরেন যান। ৩৩ বছরের যুবক এখন মন দিয়ে পদার্থবিদ্যা শিখছেন। পরিকল্পনা করছেন অন্য এক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করার। তাঁর এই পোস্টের পর, লুম আবার গুগল-এ ব্যাপক হারে ‘সার্চ’ হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।
