আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও পোস্ট করার দায়ে ১৯ জন ভারতীয়-সহ মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে জানা গিয়েছে যে-  অভিযুক্তরা উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিকৃত ফুটেজ ও ভুল তথ্য ছড়িনোর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছিল। 

ধৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমিরশাহির আইনে এই ধরনের ভুয়ো ভিডিও বা ভুল তথ্য ছড়ানোয় কমপক্ষে এক বছরের জেল এবং অন্তত এক লক্ষ দিরহাম জরিমানা হতে পারে।

এই পদক্ষেপটি দু'টি ধাপে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় বিভিন্ন দেশের ২৫ জন নাগরিকের নাম রয়েছে। যাদের মধ্যে ১৭ জনই ভারতীয়। তাদের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তালিকাটি সেই ১০ জন ব্যক্তির তালিকা থেকে আলাদা, যাদের মধ্যে দু'জন ভারতীয় ছিলেন। এদের নাম শনিবার প্রকাশ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কেন 'কন্টেন্ট নির্মাতারা' প্রশাসনের নজরদারির আওতায় এলেন?
এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত ভুয়ো তথ্য বিস্তার রোধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

আমিরশাহি সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ওয়াম'-এর তথ্যমতে, বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'তদন্ত ও ইলেকট্রনিক নজরদারিতে দেখা গিয়েছে যে, অভিযুক্তরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকৃত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা হয়েছিল। এইসব ক্লিপে আগ্রাসনরত ইরানকে মহিমান্বিত করে তোলা হয়েছিল।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'এ ধরনের ফুটেজ প্রকাশ করার ফলে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্মুক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভুয়ো ক্লিপের সুযোগ নিয়ে শত্রু মনোভাবাপন্ন বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট বিভ্রান্তিকর প্রচারের সুযোগ পেয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি জনসাধারণকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যেও ভুল তথ্য ছড়াতে এই ঘটনাগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।'