আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে মার্কিন মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু অনুরোধের একদিন পরেই রাতারাতি সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মিত্র দেশগুলির মধ্যে একাধিক দেশেরই নীরবতা বা অনীহার পর মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারও সহায়তার প্রয়োজন নেই।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে গেছে। ভারতজুড়েও এলপিজি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কারও সাহায্যের দরকার নেই। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। আমাদের সামরিক শক্তিও বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।’

তিনি আবারও অভিযোগ করেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে সবসময় আগ্রহ দেখায় না।’ উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগেই ট্রাম্প মিত্র দেশগুলিকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সোমবার তিনি সেই আহ্বান আরও জোরালো করে বলেন, মিত্ররা যদি সাহায্য না করে তবে ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য তা ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ যেমন জার্মানি, স্পেন ও ইতালি এই অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

তারা জানিয়েছে, আপাতত ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস বলেন, 'সংঘাত শুরুর আগে ওয়াশিংটন বা ইজরায়েল বার্লিনের সঙ্গে আলোচনা করেনি। এছাড়া জার্মানির সংবিধান অনুযায়ী এমন সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অনুমোদনও নেই।'

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর কোনও অনুমোদন আমাদের কাছে নেই।’ মিত্রদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, ফ্রান্স সম্ভবত সাহায্য করবে।

তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি যোগ করেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কারওর প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প সোজাসুজি বলে দেন, ‘আমি খুব একটা জোরাজুরি করতে পছন্দ করি না, কারণ আমার মনোভাব হল, আমাদের আর কাউকে দরকার নেই। তবে আমি দেখতে চাই বাকি দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।’

তিনি আরও বলেন, এই আহ্বানের উদ্দেশ্য ছিল মিত্ররা প্রয়োজনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কি না সেটা যাচাই করাই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে যুক্তরাজ্যের কথাও উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ সত্ত্বেও ব্রিটেন যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে রাজি হয়নি। পরে যখন যুদ্ধ প্রায় শেষ, তখন তারা সহায়তার প্রস্তাব দেয়, যা প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন মুলুক।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ওদের সাহায্যের জন্য বলেছিলাম। যুদ্ধের আগে আমাদের সেই সহায়তা প্রয়োজন ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আর তার দরকার নেই।’