আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তেজনার মধ্যে এবার বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিল ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র বোমাবর্ষণ করে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই ইরানের এই হুঁশিয়ারি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয় এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে, যা ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন প্রায় ১.৮ কোটি ব্যারেল তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে স্থানান্তরিত হয়। এই পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতেও। ভারতের আমদানি করা প্রায় ৪০ শতাংশ তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আসে হরমুজ প্রণালী দিয়েই। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ LNG কাতার থেকে আসে, এবং উল্লেখযোগ্য অংশ আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকেও। এই দুই দেশই হরমুজের ওপর নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালীর মধ্যে কেশম, হেংগাম-সহ বেশ কিছু কৌশলগত দ্বীপ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে ২০১২ সালে মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার সময়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছিল ইরান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ২০১৯ সালে চারটি জাহাজ, যার মধ্যে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কার ছিল, হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলার শিকার হয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ওমান উপকূলে ইজরায়েলের একটি ট্যাঙ্কারে হামলায় দুই ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। ইজরায়েল এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও, তেহরান তা অস্বীকার করে।
২০২৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় ইরান তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে। এমনকি ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এক হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ জিপিএস বিভ্রাটের শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের জ্বালানি খরচে এবং ঘরোয়া বাজারে মূল্যবৃদ্ধিতে। তবে সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিকল্প রুট তৈরির চেষ্টা করেছে।
















