আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হল ইরানের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির হত্যাকাণ্ডে। মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই ঘটনাকে তেহরানের ক্ষমতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইরর মৃত্যু (২৮ ফেব্রুয়ারি) পরবর্তী সময়ে লারিজানিকে শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং কার্যত “ডানহাত” হিসেবে পরিচিত লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির রূপকার ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে “শহিদত্ব” বলে আখ্যা দিয়ে ইরান সরকার গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
খামেনেই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে চলে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে লারিজানিও গত দুই সপ্তাহ ধরে একের পর এক গোপন আস্তানা বদল করে নিজের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে শেষরক্ষা হয়নি। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থার দাবি, মঙ্গলবার তেহরানের উপকণ্ঠ পারদিসে নিজের মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় লক্ষ্যভেদী হামলায় নিহত হন লারিজানি। এই হামলায় তাঁর ছেলে, এক ঘনিষ্ঠ সহকারী এবং একাধিক দেহরক্ষীও নিহত হন। একই সঙ্গে, ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি। গত ১৬-১৭ মার্চ রাতের অভিযানে তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকায় এই হামলা চালানো হয় বলে সূত্রের খবর।
ইজরায়েলি সূত্রের দাবি, লারিজানির অবস্থান সম্পর্কে “মূল্যবান তথ্য” সরবরাহ করেছিল তেহরানের কিছু বাসিন্দা। স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই হামলা সফল হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জনসমক্ষে লারিজানির উপস্থিতি—বিশেষ করে কুদস দিবসের সমাবেশে যোগদান—তাঁকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে। এক ইজরায়েলি আধিকারিকের কথায়, এই “উদ্ধত প্রকাশ্য উপস্থিতিই” তাঁর অবস্থান ফাঁসের অন্যতম কারণ। খামেনেই হত্যার পর থেকেই লারিজানি ছিলেন ইজরায়েলের “প্রথম সারির টার্গেট”—এমনটাই দাবি করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। যদিও তাঁর গতিবিধি ছিল অত্যন্ত সতর্ক ও গতিশীল, তবুও শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে পারেননি তিনি।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইরান ইতিমধ্যেই কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশের সেনাপ্রধান আমীর হাতামি জানিয়েছেন, লারিজানির হত্যার জবাব হবে “মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এবং অনুশোচনীয়”—যা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক শীর্ষ নেতার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোকে নাড়া দিলেও, একই সঙ্গে তা প্রতিশোধমূলক অভিযানের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে গোটা অঞ্চল আবারও নতুন করে এক অনিশ্চিত ও সংঘাতময় অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
