আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাভোসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ প্রায় ৭০ মিনিটের ভাষণ দেন। যা মূলত তাঁর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করেই ছিল। ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন যে, বিশাল অরক্ষিত দ্বীপটি আমেরিকার অংশ এবং এটি আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া-চিন থেকে শুরু করে ন্যাটোতে আমেরিকার অবদান, নানা বিষয়ে নানা দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষণের বেশ কয়েকটি দাবি সত্যি ছিল না। সেই সকল তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন তুলে ধরা হল।

গ্রিনল্যান্ড

দাবি: ডাভোসে ট্রাম্প বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম’। তিনি আরও দাবি করেন যে, আমরা কতটা বোকা ছিলাম যে এই কাজ করেছি।

ফ্যাক্ট চেক: ১৯৩৩ সালে একটি আন্তর্জাতিক আদালত রায় দেয় যে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন। ১৯৪১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নাৎসি জার্মানির হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করার অনুমতি দেয়। এই চুক্তিতে সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের কোনও বিষয় ছিল না।

চিনে বায়ুকলের ব্যবহার

দাবি: ট্রাম্প বলেছেন যে চিন একটি ‘নতুন সবুজ কেলেঙ্কারি’ করছে, চিনে কোনও বায়ুকল নেই।

ফ্যাক্ট চেক: চিনের গানসুতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বায়ুকল রয়েছে, যা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। বিবিসি সেটির ছবি-সহ এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

ন্যাটো সম্পর্কে ট্রাম্প

দাবি: ট্রাম্প বলেছেন যে আমেরিকা ন্যাটোর কাছ থেকে কখনওই কিছু পায়নি এবং কখনওই কিছু চায়নি।

ফ্যাক্ট চেক: ৯/১১ হামলার পর আমেরিকা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ সক্রিয় করেছিল। পরবর্তীতে, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি আফগানিস্তানে আমেরিকা-নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল।

ন্যাটোকে আমেরিকার অর্থ প্রদান

দাবি: ট্রাম্প বলেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ন্যাটোর ১০০ শতাংশ ব্যয়ের ভার বহন করছে। ন্যাটো সদস্য অন্যান্য দেশগুলির অবদানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের তুলনা করে তিনি বলেন, তারা ২ শতাংশও দিত না এবং এখন তারা ৫ শতাংশ দিচ্ছে।

ফ্যাক্ট চেক: বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ন্যাটো দেশগুলির মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল। 

ট্রাম্পের বিনিয়োগের বড়াই 

দাবি: নিজের প্রশাসনের প্রশংসা করে ট্রাম্প দাবি করেন, আমরা রেকর্ড পরিমাণ ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছি। এবং পরে তিনি আবারও বলেন, ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

ফ্যাক্ট চেক: হোয়াইট হাউসের একটি ওয়েবসাইট, যা সর্বশেষ নভেম্বরে আপডেট করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছে যে ট্রাম্পের অধীনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার (৭.১ ট্রিলিয়ন পাউন্ড)। বিবিসি জানিয়েছে যে এই তালিকার সবচেয়ে বড় অঙ্কটি হল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) তরফ থেকে উৎপাদন ও শিল্প খাতে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের (১ ট্রিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগ।

ব্রিটেনের জ্বালানি কর 

দাবি: ট্রাম্প ব্রিটেনের সমালোচনা করে এবং উত্তর সাগরের তেলের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তারা (ব্রিটেন)তেল কোম্পানিগুলির জন্য কাজ করা অসম্ভব করে তুলেছে। তারা আয়ের ৯২% নিয়ে নেয়।

ফ্যাক্ট চেক: ট্রাম্পের দাবিগুলি মিথ্যা। ব্রিটেন মোট রাজস্বের কোনও অংশ নেয় না। সমস্ত কর শুধুমাত্র লাভের উপর প্রযোজ্য হয়। উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারীদের বর্তমানে নিম্নলিখিত হারে কর দিতে হয়- ৩০% কর্পোরেশন কর, ১০% সম্পূরক কর, ৩৮% উইন্ডফল কর।