আজকাল ওয়েবডেস্ক:  পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের এক বক্তব্যকে ঘিরে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন যে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী একটি তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ পার করিয়েছে। তবে পরে তিনি সেই পোস্ট মুছে ফেলেন এবং হোয়াইট হাউস তার বক্তব্যকে অস্বীকার করে।


সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে রাইট লিখেছিলেন, এশিয়াতে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেও বিশ্বের জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মধ্যেও বিশ্বের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছেন। মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে পার করিয়েছে, যাতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকে।”


বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি হল হরমুজ প্রণালী। এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালীতে কোনও ধরনের বাধা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে।


২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে।


তবে মার্কিন জ্বালানি সচিবের এই দাবি দ্রুতই বিতর্কের জন্ম দেয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনও তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এসকর্ট করেনি। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকেও একই কথা জানান। 


পরে জ্বালানি দপ্তরের মুখপাত্র বেন ডায়েটডেরিচ জানান, সচিবের পোস্ট করা ভিডিও ক্লিপটি ভুলভাবে ক্যাপশন করা হয়েছিল। বিভাগের কর্মীদের একটি ভুলের কারণে ভিডিওটিতে এমন দাবি উঠে আসে। বিষয়টি ধরা পড়ার পরই পোস্টটি তার সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।


তিনি আরও জানান, সচিবসহ মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন, কারণ এটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।


এদিকে ইরানও মার্কিন জ্বালানি সচিবের দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনও তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার করিয়ে নিয়ে গেছে—এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।


ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “মার্কিন নৌবহর ও তাদের মিত্রদের যেকোনও ধরনের নড়াচড়া আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দ্বারা থামিয়ে দেওয়া হবে।”  ইরান এর আগেও সতর্ক করে দিয়েছে যে, সংঘাত আরও বাড়লে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।


এর একদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, যদি ইরান এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় চাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য এই পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যেতে পারে এবং বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।