আজকাল ওয়েবডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের ঘোষণা করলেন। এই বিশাল প্রকল্পের জন্য তিনি ভারত এবং ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা রিয়ায়েন্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।


নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, টেক্সাসের ব্রাউনসভিল এলাকায় নতুন এই তেল শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। এটি ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বৃহৎ বিনিয়োগ চুক্তির অংশ, যার লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।


তবে এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে হওয়া বৃহত্তর কোনও চুক্তির অংশ কি না, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “ভারতে আমাদের অংশীদারদের এবং তাদের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা রিলায়েন্সকে এই অসাধারণ বিনিয়োগের জন্য ধন্যবাদ।”


ট্রাম্প এই প্রকল্পকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত প্রথম নতুন তেল শোধনাগার। তার ভাষায়, “আমেরিকা আবার প্রকৃত অর্থেই জ্বালানি আধিপত্যে ফিরে আসছে।”

https://truthsocial.com/@realDonaldTrump/posts/116206958726200848
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, “আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং” নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নতুন এই শোধনাগার নির্মিত হবে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ চুক্তিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্প দক্ষিণ টেক্সাসে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি আনবে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রাউনসভিল বন্দরে নির্মিত এই শোধনাগার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াবে এবং একই সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানিও বৃদ্ধি করবে। ট্রাম্পের মতে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।


তিনি আরও দাবি করেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার বা পরিবেশবান্ধব তেল শোধনাগারগুলোর একটি। এই প্রকল্প থেকে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


এই ঘোষণা এমন সময়ে এল যখন এশিয়াতে উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশেষ করে ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।


সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনেক তেলবাহী জাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারছে না।


এর ফলে বিশ্বের তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

 


এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণের ঘোষণা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ কিছুটা কমাতে সক্ষম হবে।