ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরবিআই ব্যাঙ্কগুলোর ডিভিডেন্ড দেওয়ার প্রস্তাবিত নিয়মে কিছুটা শিথিলতা এনেছে। ব্যাঙ্কিং শিল্পের মতামত বিবেচনা করে আরবিআই খারাপ ঋণ বা এনপিএ গণনার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কিছু নিয়ম সহজ করেছে, যদিও মূল কাঠামোটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
2
12
এই নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি হয়েছে খারাপ ঋণকে কীভাবে লাভের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি আরবিআই যে খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করেছিল, সেখানে বলা হয়েছিল যে ব্যাঙ্কগুলিকে ডিভিডেন্ড দেওয়ার জন্য উপলব্ধ লাভ নির্ধারণ করতে হলে তাদের নেট নন-পারফর্মিং অ্যাসেট বা এনপিএর ১০০ শতাংশ লাভ থেকে বাদ দিতে হবে।
3
12
ব্যাঙ্ক ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা তখন মত দেন যে এই নিয়মটি অত্যন্ত কঠোর এবং বাস্তবতার তুলনায় বেশি রক্ষণশীল। সেই মতামত বিবেচনা করেই আরবিআই নিয়মে পরিবর্তন এনেছে।
4
12
মঙ্গলবার প্রকাশিত চূড়ান্ত কাঠামো অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাঙ্কগুলিকে লাভের হিসাব করার সময় নেট এনপিএর ১০০ শতাংশ নয়, বরং ৫০ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ আগের তুলনায় ব্যাঙ্কগুলির জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে হিসাব করা কিছুটা সহজ হবে।
5
12
তবে আরবিআই তার প্রস্তাবিত নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপরিবর্তিত রেখেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক কত ডিভিডেন্ড দিতে পারবে তা নির্ভর করবে তাদের মূলধনের শক্তির উপর।
6
12
এই কাঠামো অনুযায়ী ব্যাঙ্কগুলোকে বিভিন্ন “বাকেট”-এ ভাগ করা হবে, যা নির্ধারিত হবে তাদের অনুপাতের ভিত্তিতে। সেই অনুযায়ী ব্যাঙ্কগুলো তাদের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ ডিভিডেন্ড হিসেবে বিতরণ করতে পারবে।
7
12
নতুন নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ড বিতরণের সীমা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৫ শতাংশ। এই চূড়ান্ত নীতি আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
8
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাঙ্কগুলোর ডিভিডেন্ড থেকে সরকারের আয় বাড়তে পারে। কারণ সরকারি ব্যাঙ্কগুলোর বড় অংশের মালিকই হল ভারত সরকার।
9
12
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক বা পিএসইউ ব্যাঙ্কগুলি ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট ৩৪,৯৯০ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এর আগের অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ২৭,৮৩০ কোটি টাকা। ওই মোট ডিভিডেন্ডের মধ্যে সরকারের অংশ ছিল প্রায় ২২,৬৯৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১৮,০১৩ কোটি টাকা।
10
12
ব্যাঙ্কগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা বা ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত—টিয়ার-১ এবং টিয়ার-২ মূলধন। টিয়ার-১ মূলধনের মধ্যে থাকে মূল ইক্যুইটি বা এবং কিছু বিশেষ আর্থিক উপকরণ যেমন পারপেচুয়াল বন্ড।
11
12
অন্যদিকে টিয়ার-২ মূলধনের মধ্যে থাকে অতিরিক্ত মূলধন যেমন সাবঅর্ডিনেটেড ঋণ এবং কিছু সংরক্ষিত তহবিল। এই দুই ধরনের মূলধন মিলেই ব্যাংকের মোট ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও নির্ধারিত হয়।
12
12
সহজভাবে বলতে গেলে, সিইটি ওয়ান হল ব্যাঙ্কের মোট মূলধনের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। আরবিআই এখন সেই মূলধনের শক্তির উপর ভিত্তি করেই ব্যাঙ্কগুলোর ডিভিডেন্ড নীতি নির্ধারণ করতে চাইছে, যাতে ব্যাঙ্কের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডাররাও লাভবান হন।