ভারতের বিভিন্ন বড় শহরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতা একাধিক শহরে হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁকে মেনু কমাতে হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে পরিষেবাও বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
2
9
হসপিটালিটি শিল্পের সংগঠনগুলির মতে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের অনিয়মিত সরবরাহ যদি চলতে থাকে, তাহলে দেশের হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
3
9
পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে ছোট ও মাঝারি হোটেলগুলিকে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখতে হতে পারে। সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে যাতে গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং প্রয়োজনে হসপিটালিটি শিল্পকে ‘অপরিহার্য পরিষেবা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
4
9
মুম্বইয়ের অনেক ছোট হোটেল ও খাবারের দোকানে ইতিমধ্যেই সমস্যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে রান্নাঘর চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
5
9
এক হোটেল মালিক কমলাকর জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে তাদের মেনু পরিবর্তন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন আর গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সব খাবার বানানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা আগেভাগে তৈরি করা কিছু সাধারণ খাবারই পরিবেশন করতে পারছি।”
6
9
অন্যদিকে হায়দরাবাদের আইটি করিডর এলাকায় কিছু হোস্টেলেও খাবারের মেনুতে সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার হোস্টেল অ্যাসোসিয়েশন রান্নাঘরগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে যে বেশি গ্যাস লাগে এমন খাবার—যেমন চাপাটি, দোসা বা পুরি—অস্থায়ীভাবে কম পরিবেশন করতে। এর পরিবর্তে সহজ ও কম গ্যাসে রান্না করা যায় এমন খাবার পরিবেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
7
9
সরকার অবশ্য বলছে, দেশে সামগ্রিকভাবে কোনও বড় এলপিজি সংকট নেই। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, তেল শোধনাগারগুলিকে রান্নার গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যাতে বাজারে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পড়ছে, যা বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি করতে পারে।
9
9
সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পের দাবি, সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশের বহু ছোট ব্যবসা বড় সমস্যায় পড়তে পারে।