আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর তাঁর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য শুরু হয়েছে। ইসলাম ধর্মে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব কবর দেওয়ার রীতি থাকলেও, খামেনির ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ বিলম্ব কেন হল, তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নানা জল্পনা চলছিল। কেউ দাবি করেছিলেন, তাঁর মরদেহ অস্থায়ীভাবে গোপনে কবর দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের সরকার সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই শেষকৃত্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ছিল। রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক এলাকায় হামলার আশঙ্কা থাকায় দেশের সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যের মতো বিশাল কর্মসূচি তখন আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, খামেনির মরদেহ ইসলামি ধর্মীয় বিধি মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলামে সাধারণভাবে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। তাই তাঁর দেহে কোনও ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়নি।
জানা গিয়েছে মরদেহ সম্ভবত বিশেষ কোনও এক ঠান্ডাঘরে সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া ধর্মীয় আইন অনুযায়ী কবর দেওয়া বিলম্বিত করা এবং ঠান্ডা পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণ করা বৈধ। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এধরনের অনুমতি পাওয়া কঠিন নয়।
এদিকে তেহরানে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন ফুল দিয়ে সাজানো মঞ্চে রাখা হয়েছে। বহু মানুষ কালো পোশাক পরে শোক প্রকাশ করছেন।
ইরান সরকার জানিয়েছে, এই শেষকৃত্য শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তী কয়েক দিনে কোম ও মাশহাদেও শোকযাত্রা হবে। পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
জানা গিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে, ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে খামেনিকে সমাহিত করা হবে। মাশহাদই তাঁর জন্মস্থান।
এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আরিফ মহম্মদ খান নন, বরং কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। এছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের একাধিক দেশও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে।
ইরান সরকার এই শেষকৃত্যকে জাতীয় ঐক্য ও শোকের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তবে দীর্ঘ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তেহরানের দিকেই।















