অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা তছরুপের ঘটনার তদন্ত এবার আরও গতি পেয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের সরাসরি টাকা চুরি করতে দেখা গেছে। যখন ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর টাকা গোনা হচ্ছিল, ঠিক তখনই অত্যন্ত চালাকির সাথে বেশ কয়েকজন অভিযুক্ত ক্যাশ টাকা সরিয়ে ফেলছিলেন, যা ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।
2
10
শুধু তাই নয়, এই মামলার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনদের বিভিন্ন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিআইটি (SIT), যারা শ্রী রাম লালা মন্দিরে আসা অনুদানের এই বিরাট গরমিলের শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
3
10
তদন্তকারীদের সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ৪৫ দিনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজনকে চিহ্নিত করা গেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, টাকা গোনার সময় এই ব্যক্তিরা বান্ডিল বান্ডিল নোট সরিয়ে নিচ্ছেন। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সেই টাকা তারা নিজেদের জামাকাপড় এবং মোজার ভেতরে লুকিয়ে কাউন্টিং এরিয়া থেকে বেরিয়ে যেতেন।
4
10
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা স্তূপ করে রাখা নোটের মধ্য থেকে সুযোগ বুঝে বান্ডিল গায়েব করে দিচ্ছিলেন।
5
10
দুর্ভাগ্যবশত, মন্দিরে ৪৫ দিনের বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ব্যাকআপ রাখার ব্যবস্থা নেই, যার কারণে এই চুরির কারবার ঠিক কতদিন ধরে চলছিল তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এই খেলা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই।
6
10
এই জালিয়াতির ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত অবিনাশ শুক্লা, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রমাশঙ্কর মিশ্র, রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব নামে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে তিন্নু যাদবের নাম সামনে আসায় শোরগোল পড়ে গেছে, কারণ সে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিল। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে চম্পত রায়ের এই ঘটনার সাথে কোনও যোগসাজশ বা অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
7
10
এদিকে, যে আউটসোর্সিং এজেন্সির মাধ্যমে এই কর্মীদের টাকা গোনার কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল, তারা তড়িঘড়ি এই অভিযুক্তদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে।
8
10
এজেন্সির দাবি, এই কর্মীদের নাম স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) সুপারিশ করেছিল, যারা মূলত মন্দিরের অনুদানের টাকা জমা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। এই তথ্যের পর তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন যে এই গোটা চক্রে ব্যাঙ্কের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ভূমিকা রয়েছে কি না।
9
10
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই সিআইটি-র তদন্তের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে দিয়েছে। তিন সদস্যের এই বিশেষ প্যানেল এখন শুধু টাকা চুরির মামলাই নয়, বরং মন্দিরের প্রশাসনিক কাজকর্ম, কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।
10
10
সমান্তরালভাবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লাকে অযোধ্যার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। স্থানীয় আদালত থেকে ২৪ ঘণ্টার রিমান্ড পাওয়ার পর পুলিশ তার বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে এবং নতুন কোনো সূত্র মেলে কি না, তার চেষ্টা চালাচ্ছে।