আজকাল ওয়েবডেস্ক: চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সরকারি ক্যানসার চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হওয়ার মুখে। সরকারি তহবিলে টান পড়ায় জীবনদায়ী ওষুধ মিলছে না, যার ফলে কয়েক হাজার নথিভুক্ত ক্যানসার রোগীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অর্থাভাবে গত কয়েক মাস ধরে বহু হাসপাতালে ওষুধের নতুন স্টক এসে পৌঁছায়নি।
প্রদেশের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র হায়াতাবাদ মেডিকেল কমপ্লেক্স, খাইবার টিচিং হাসপাতাল এবং আইয়ুব টিচিং হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে ক্যানসার চিকিৎসার এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি চালানো হয়। কিন্তু বর্তমানে ওষুধের সরবরাহ বন্ধ থাকায় অন্তত ১০০০ জন রোগী চিকিৎসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বিশেষ করে পেশোয়ার ও অ্যাবোটাবাদের হাসপাতালগুলিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।
খাইবার টিচিং হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে কোনও স্টক নেই। ফলে ৬২৩ জন নথিভুক্ত ক্যানসার রোগী ওষুধ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, আইয়ুব টিচিং হাসপাতালে ডিসেম্বর মাসে শেষবারের মতো ওষুধের জোগান এসেছিল, যা এখন শেষের পথে।
স্বাস্থ্য সচিব শাহিদুল্লাহ খান জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) এই কর্মসূচির জন্য মোট ১৫০০ মিলিয়ন পাকিস্তানি টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র ৮২০ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ, ৬৮০ মিলিয়ন টাকার বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য খাত থেকে টাকা এনে এই সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
সংকট শুধু তহবিলেই নয়, পাকিস্তানের বাজারে ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিও কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। বোহর বাজারের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলিতে ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র ক্যানসার নয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা থাইরয়েডের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ওষুধের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, যে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন ডিভাইসের দাম আগে যা ছিল, তা এখন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই রোগের চিকিৎসায় বিরতি দেওয়া মানে মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করা। বিশেষ করে যারা থার্ড বা ফোর্থ স্টেজে আছেন, তাদের জন্য প্রতিটা দিন গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১০,০০০-এর বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এখন যদি সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তবে নিম্নবিত্ত পরিবারের রোগীদের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নাগরিক মহলের অভিযোগ, একদিকে মুদ্রাস্ফীতি আর অন্যদিকে সরকারি উদাসীনতা—এই জোড়া ফলায় পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্য সরকার কবে এই ঘাটতি মেটায় এবং জীবনদায়ী ওষুধ আবার কবে হাসপাতালের ওয়ার্ডে পৌঁছায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে হাজার হাজার মুমূর্ষু রোগী ও তাদের পরিবার।















