আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান এখনই শেষ হচ্ছে না—এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, শুধু ক্ষণস্থায়ী আঘাত নয়, এমন “স্থায়ী ক্ষতি” করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা চাইলে আজই ফিরে যেতে পারি, কিন্তু যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনে ইরানের ১০ বছর লাগবে। তবে আমি মনে করি, আমাদের এটাকে আরও স্থায়ী করতে হবে।” তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের হামলায় ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।
যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী সুরে ট্রাম্প বলেন, “যুদ্ধ খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। আমরা খুব ভালো কাজ করেছি। এমন ফলাফল এসেছে, যা অনেকেই কল্পনাও করেননি।” একইসঙ্গে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে পদক্ষেপ না নিলে ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন করত। তাঁর কথায়, “তারা মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল। তখন আর কোনও আলোচনা হতো না, তারা খুব সহজেই সেটা ব্যবহার করত।”
তবে যুদ্ধ শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমরা এখনও চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নই, তবে খুব শিগগিরই চলে যাব।” অন্য এক মন্তব্যে তিনি এই সংঘাতকে “কয়েক সপ্তাহের একটি ছোট্ট অভিযান” বলেও উল্লেখ করেন, যা দ্রুত শেষ হবে বলে তাঁর আশা।
ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা জানি না কার সঙ্গে কথা বলব।” এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তা ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দেয়নি ন্যাটো। তিনি বলেন, “ন্যাটো একটি বড় ভুল করছে,” কারণ এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়।
তবে দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধের আশঙ্কা তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা টানলে ট্রাম্প বলেন, “আমি কোনও কিছুতেই ভয় পাচ্ছি না।” ইরান যুদ্ধ ইতিমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারে বড় পরিবর্তন আনছে। এমনকি এই সংঘাতের কারণে চীনের প্রেসিডেন্ট জিংপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকও পিছিয়ে গেছে।
&t=4s
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনই থামছে না। বরং দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
