আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময়ই এক যান্ত্রিক সমস্যার কারণে তার বিমানকে মেরিল্যান্ডের বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে আসতে হয়। মোট প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট আকাশে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান। 


ঘটনার সময় বিমানের মধ্যে থাকা সাংবাদিকরা জানান, উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই কেবিনের আলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিভে যায়। পরে ট্রাম্প ও তার দল অন্য একটি বিমানে উঠে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। প্রথম উড়ানের দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট পর তারা ফের দাভোসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। 
যাত্রা শুরুর আগেই ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “আমেরিকা দাভোসে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে — আমিই সেই প্রতিনিধি। ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন!”


দাভোসে ট্রাম্পের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ডও রয়েছে, যা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। সোমবার তিনি বলেন, “আমি দাভোসে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সম্মত হয়েছি। গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবিষয়ে আর পিছিয়ে যাওয়া যাবে না, সবাই এতে একমত!”


দাভোসে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন,  গ্রিনল্যান্ড মার্কিন নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি, কারণ উপকূলজুড়ে রুশ ও চীনা জাহাজ ঘোরাফেরা করছে।


তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড নেতৃত্ব এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। ইউরোপীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে ডেনিশ রাজতন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান তুলে ধরে এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ৮০০ বছর ধরে ডেনিশ রাষ্ট্রের অংশ। এটি সমন্বিত দেশ, বিক্রির জন্য নয়।”


দাভোসে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশ্বের নিরাপত্তা, রাজনীতি ও মার্কিন পররাষ্ট্রকৌশল— যেখানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।