আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধকালীন উত্তেজনা ক্রমে বাড়ছে। আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। সম্প্রতি, আমেরিকার সর্বোচ্চ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প, একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ইরান আত্মসমর্পণ করতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি।” 

এই মন্তব্য তিনি করেছিলেন জি–৭ নেতাদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে। জি-৭ বা গ্রুপ অফ সেভেন, হল বিশ্বের সাতটি ধনী ও প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক দেশের একটি জোট। জানা গিয়েছে, এই দেশের নেতারা নিয়মিত বৈঠক করেন। বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনীতি, যুদ্ধ, জলবায়ু, বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজন কর্মকর্তা এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানেন। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে।” তিনি আরও বলেন, তেহরানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কোনও কর্মকর্তা এখন আর বেঁচে নেই। তাঁর কথায়, “দেশের কেউ জানে না তাদের নেতা কে। ফলে আত্মসমর্পণ ঘোষণা করার মতোও কেউ নেই দেশটায়।” এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। 

এই ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বক্তব্য রাখেন। ক্ষমতায় আসার পরেই তিনি প্রথম বক্তব্য রাখেন, “প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের প্রধান লক্ষ্য। তা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান এখনই যুদ্ধ থামাতে রাজি নয়। 

সংঘাতের ১৪তম দিনে, অর্থাৎ শুক্রবারে, ইরান বড় হুঁশিয়ারি দেয়। প্রয়োজন পড়লে তারা বন্ধ করে দিতে পারে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি এই প্রণালী হয়ে বিশ্বের দরবারে যায়। ফলে গোটা বিশ্বের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশঙ্কা, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। 

জি–৭ বৈঠকে ট্রাম্প আরেকটি মন্তব্য করেন। যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকা ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এদিন বৈঠকে সেই ঘটনার উল্লেখ করে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্তারমারকে লক্ষ্য করে বলেন, “এখন কোনওরকম সাহায্যের প্রয়োজন নেই। যুদ্ধের আগে এ নিয়ে বিবেচনা করা উচিত ছিল। তখন ফিরিয়ে দিয়েছ। এখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” 

কিন্তু পরে অবশ্য স্তারমার বলেছেন, ইরান যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর উপরে আক্রমণ করে, তাহলে প্রতিরক্ষার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করা যেতে পারে। 

অন্যদিকে, আমেরিকা হয়তো হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সম্ভাবনার বিষয়টা ঠিকভাবে অনুমান করতে পারেনি। যুদ্ধ পরিকল্পনার সময় আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং নিরাপত্তা পরিষদ, হরমুজের উপর গুরুত্ব দেয়নি। যদিও আমেরিকার সেনাবাহিনীর কাছে আগে থেকেই এই পরিস্থিতির জন্য জরুরি পরিকল্পনা রয়েছে। 

সবমিলিয়ে, পরিস্থিতি সঙ্গীন। যুদ্ধ থামার লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না। একদিকে আমেরিকা বলছে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ইরানের নতুন নেতা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।