আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান-আমেরিকার মধ্যে চাপানউতরে ছেদ পড়ছে না। সশস্ত্র যুদ্ধবিরতি থামানো গেলেও বাকযুদ্ধ অব্যাহত। সম্প্রতি মধ্য প্রাচ্যের সামরিক জোট আরও জোরদার করার জন্য নয়া পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ওই অঞ্চলের মিত্র দেশগুলির কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। বিমান-প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে লেজার নির্দেশনাব্যবস্থার মতো সামরিক অস্ত্র রয়েছে এই তালিকায়। শুক্রবারই মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
আমেরিকান প্রশাসন ইজরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহ-এর মতো চারটি দেশে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ইজরায়েল এবং কাতার-দুই দেশেই ৯৯২.৪ থেকে ৯৯২.৬ মিলিয়ন অর্থমূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহে ১৪৭.৬ মিলিয়ন এবং কুয়েতে ২.৫ বিলিয়ন মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করবে মার্কিন প্রশাসন।
নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা সাপেক্ষ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উদ্ভুত পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলির জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত বলে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিয়ো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করেছে। পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ। এর মধ্যে রয়েছে- সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার এবং কুয়েত। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে আমেরিকা। তবে ইউরোপীয় নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর সঙ্গে তাদের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের বাকবিতণ্ডার জেরে জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনা সংখ্যা কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার পরই স্পষ্ট হয়েছে এই ফাটল। আমেরিকার তরফে এই ঘোষণার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, "এই পদক্ষেপ প্রত্যাশিতই ছিল। ইউরোপীয়দেরও নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।"















