আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে সোনার দাম আকাশছোঁয়া এবং বাইরের চাপের মধ্যেও ধাতুটি জ্বলজ্বল করছে, কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে এই সোনা কোথা থেকে এসেছে? জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করে আসছেন যে এর সবকিছুই মহাবিশ্বের শুরুতে উৎপত্তি এবং উল্কাপাতের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছিল। পৃথিবীর কেন্দ্র তৈরি হওয়ার পর, সোনার মতো ভারী ধাতুগুলি কেন্দ্রে ডুবে যায়। আজ পৃথিবীর ভূত্বকে যে সোনা পাওয়া যায় তা সম্ভবত ধাতু-সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছিল।

এর আগে সোনা সহ মহাবিশ্বের কিছু বিরল উপাদানের অজানা জন্মস্থান আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি সবই একটি অতিচৌম্বকীয় নক্ষত্র দ্বারা নির্গত একটি বিশাল শিখা থেকে এসেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গণনা করেছেন যে এই ধরনের অগ্নিশিখা আমাদের ছায়াপথের সোনা, প্ল্যাটিনাম এবং অন্যান্য ভারী মৌলের ১০ শতাংশ পর্যন্ত বহন করে এনেছে।

আজ আমরা যেসব মৌলকে চিনি, তার বেশিরভাগই সবসময় আমাদের কাছে ছিল না। হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং কিছু লিথিয়াম বিগ ব্যাং-এ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বাকি প্রায় সবকিছুই তারাদের জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর সময় তৈরি হয়েছে।

দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এর একটি গবেষণাপত্রে এই সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই গবেষণার প্রধান লেখক অনিরুদ্ধ প্যাটেল বলেছেন, “এটা ভাবা বেশ অবিশ্বাস্য যে আমাদের চারপাশের কিছু ভারী উপাদান, যেমন আমাদের ফোন এবং কম্পিউটারের মূল্যবান ধাতু, এই চরম পরিবেশে উৎপাদিত হয়।”

নতুন আবিষ্কারটি ঘটেছে ২০ বছর আগে ২০০৪ সালে। পৃথিবীতে বসানো একটি টেলিস্কোপে ধরা পড়া একটি বিরল সঙ্কেতের জন্য। এই সঙ্কেতটি এসেছে একটি ম্যাগনেটার থেকে। এটি এক ধরণের তারা যা পৃথিবীর চেয়ে ট্রিলিয়ন গুণ শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রে দ্বারা আবৃত। এটি থেকেই শক্তিশালী শিখার বিচ্ছুরণ ঘটেছিল। বিকিরণের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল। কিন্তু এটি আমাদের সূর্য ১০ লক্ষ বছরে যত শক্তি নির্গত করে তার চেয়ে বেশি শক্তি নির্গত করেছিল।

এই ছোট সঙ্কেতটি সোনা এবং প্ল্যাটিনামের মতো ভারী উপাদানের জন্মের ইঙ্গিত দেয়। এই উপাদানগুলির আরও একটি উৎস নিশ্চিত করার পাশাপাশি, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছিলেন যে ২০০৪ সালের তরঙ্গই পৃথিবীর ভরের এক তৃতীয়াংশ ভারী ধাতুর সমতুল্য উৎপাদন করেছিল।

গবেষণার সহ-লেখক ব্রায়ান মেটজগার বলেছেন, “এই উপাদানগুলি কোথায় তৈরি হয় তার প্রমাণ দ্বিতীয়বারের মতো পেয়েছি আমরা। ভারী উপাদান উৎপাদন সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।”