আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইংল্যান্ডে ২০২৪ সালে দেহদান করা এক ৭৮ বছর বয়সী ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে চিকিৎসকরা এমন এক আবিষ্কারের মুখোমুখি হন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। তাঁর শরীরে পাওয়া যায় তিনটি লিঙ্গ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় পলিফ্যালিয়া, আর তিনটি হলে তাকে বলা হয় ট্রাইফ্যালিয়া। গত চার শতকের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এ ধরনের ঘটনা বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে মাত্র দ্বিতীয়বার নথিভুক্ত হল।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাইরে থেকে তাঁর শারীরিক গঠন ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অতিরিক্ত দু’টি লিঙ্গ ছিল স্ক্রোটামের ভেতরে লুকিয়ে। ফলে জীবদ্দশায় তিনি নিজেও হয়তো জানতেন না যে তাঁর শরীরে এই বিরল অস্বাভাবিকতা রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতি ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ জীবিত জন্মে একজনের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
১৬০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রাইফ্যালিয়ার আর একমাত্র যে কেসটি নথিভুক্ত হয়েছে, তা ছিল তিন মাস বয়সী এক শিশুর। সেই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অঙ্গ দু’টি বাইরে থেকে দৃশ্যমান ছিল এবং পরে অস্ত্রোপচারে সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু এই বৃদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অঙ্গ দুটি সম্পূর্ণ আড়ালে ছিল, ফলে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিষয়টি ধরা পড়েনি।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভ্রূণ অবস্থায় ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) নামের একটি হরমোন প্রোস্টেট ও লিঙ্গ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ক্ষেত্রে সম্ভবত ‘জেনিটাল টিউবারকল’—যা থেকে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ যৌনাঙ্গ তৈরি হয়—তা তিনবার গঠিত হয়েছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় লিঙ্গে মূলত ইউরেথ্রা তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় মূত্রনালীর পথ বদলে প্রাথমিক লিঙ্গে গিয়ে তৈরি হয়। তৃতীয়টি সম্ভবত সেই অতিরিক্ত গঠনের একটি অবশিষ্টাংশ হিসেবে থেকে যায়।
যদিও তাঁর জীবদ্দশায় এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, গবেষকরা মনে করছেন তিনি হয়তো কিছু জটিলতায় ভুগে থাকতে পারেন—যেমন ঘন ঘন মূত্রনালীর সংক্রমণ, ইরেকটাইল সমস্যা বা প্রজননজনিত অসুবিধা। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি একসময় ইনগুইনাল হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। সেই সময় ক্যাথেটার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে চিকিৎসকেরা তখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। শুধু জানা গেছে, তাঁর উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং গঠন ছিল মাঝারি থেকে বড়।
গবেষকদের মতে, যেহেতু এই অতিরিক্ত অঙ্গগুলি বাইরে থেকে বোঝা যায়নি, তাই এমন ঘটনা হয়তো ধারণার তুলনায় বেশি ঘটতে পারে—কিন্তু ধরা পড়ে না। মানবদেহের গঠন যে কত জটিল এবং বিস্ময়কর, এই ঘটনা তারই এক অদ্ভুত উদাহরণ।
হালকা রসিকতার ছোঁয়া থাকলেও বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুর পরেও এই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বিজ্ঞানের ঝুলিতে যোগ করলেন এক বিরল তথ্য—যা ভবিষ্যতে জন্মগত অস্বাভাবিকতা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
