আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের উপর সম্ভাব্য হামলার জন্য ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে সম্মতি দিতে নারাজ ব্রিটেন। ব্রিটেনের তরফে মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে। লন্ডনের যুক্তি,  এই ধরনের আক্রমণের অংশ হওয়া আসলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমান। 

ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করছে। এসবের মাঝেই আমেরিকা, কিয়ার স্টারমারের সরকারের কাছে সুইন্ডনের কাছে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন দূরপাল্লার বোমা হামলার অনুমোদন চেয়েছিল। 

ব্রিটেনের সরাসরি আমেরিকাকে 'না' সিদ্ধান্ত, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসে স্থানান্তরের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের উপর উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। উল্লেখ্য, ব্রিটেন মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছে। ৩৫ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে দিয়েগো গার্সিয়াকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই দ্বীপপুঞ্জ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত। ওয়াশিংটন এই ঘাঁটিকে ইন্দো-প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। 

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, "অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং বিপজ্জনক সরকারের সম্ভাব্য আক্রমণ নির্মূল করার জন্য" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিয়েগো গার্সিয়া এবং আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে প্রবেশাধিকারের প্রয়োজন হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই সামরিক ঘাঁটিগুলি ব্রিটেন এবং আমেরিকা যৌথভাবে ব্যবহার করে। কিন্তু কোনও আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে হলে আনুষ্ঠানিক ভাবে উভয়কেই অনুমতি নিতে হয়। চুক্তি অনুসারে দিয়েগো গার্সিয়ার যেকোনও মার্কিন হামলার জন্য কেবল ব্রিটেনকে অবহিত করতে হবে। তবে আরএএফ ঘাঁটি ব্যবহার করার জন্য ব্রিটেনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

ব্রিটিশদের পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক হামলাকে সমর্থন করতে অনীহা সরকারের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী সতর্কতার প্রতিফলন। ২০০১ সালের পর ব্রিটেনের নীতি অনুসারে, একটি রাষ্ট্র যদি জেনেশুনে অভিযানে সহায়তা করে তবে কোনও মিত্রের দ্বারা বেআইনি সামরিক পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধতা ভাগ করে নিতে পারে।