আজকাল ওয়েবডেস্ক: খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের মোট সম্পত্তির পরিমান প্রকাশ্যে এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে লড়বেন তারেক। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থীকে হলফনামা দিয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ জানাতে হবে। আগে ৮টি বিষয়ে জানাতে হত, এখন ১০টি বিষয়ে তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। হলফনামা জমা দিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেই হলফনামা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হলফনামায় তারেক জানিয়েছেন তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় মোট ১ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে নগদ ও ব্যাঙ্কে জমা টাকা, শেয়ার, সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, আসবাব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ১ কোটি ৯৩ লক্ষ।
তারেকের ব্যাঙ্কে জমা ও নগদ রয়েছে ৩১ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার কিছু বেশি। শেয়ারে বিনিয়োগ করা রয়েছে সাড়ে ৬৮ লক্ষ টাকার। স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে ৯০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। সঞ্চয়ী ও অন্যান্য আমানত রয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার। তাঁর আসবাবের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সোনা ও অন্যান্য ধাতুর মূল্য ২ হাজার ৯৫০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে দু’একরের বেশি জমি, যার দাম ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার। হলফনামা অনুযায়ী, তারেক এবং তাঁর পরিবারের কারও নামে কোনও ঋণ নেই। চলতি অর্থবর্ষে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লক্ষ ১ হাজার ৪৫৩ টাকার।
তাঁর স্ত্রী জুবেইদা রহমান পেশায় চিকিৎসক। চলতি অর্থবর্ষে তিনি প্রায় ৩৫ লক্ষ ৬১ হাজার আয় করেছেন জানা গিয়েছে। তিনি আয়কর দিয়েছেন ৫ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার বেশি। ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রয়েছে ৬৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা। এফডিআর রয়েছে ৩৫ লক্ষের। সেভিংস অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১৫ হাজার টাকা। জুবেইদার নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই।
তারেকের বয়স এখন ৫৭। হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় তিনি উচ্চমাধ্যমিক লিখেছেন। নিজের পেশা হিসাবে রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর আয়ের উৎস মূলত ব্যাঙ্কে রাখা স্থায়ী আমানত এবং শেয়ার। বর্তমানে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্যের জায়গায় লেখা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে তারেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ৭৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। খালেদা-পুত্র সবচেয়ে বেশি মামলায় মুক্তি পেয়েছেন মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। মোটি ৪২টি। ২০১৪ সালে একটি, ২০১৫ সালে তিনটি, ২০১৬ সালে আটটি, ২০১৭ সালে ছ’টি, ২০১৮ সালে চারটি, ২০১৯ সালে পাঁচটি, ২০২০ সালে একটি, ২০২১ সালে একটি এবং ২০২২ সালে পাঁচটি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাঁকে।
বাংলাদেশে ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। হলফনামায় প্রার্থীর বয়স, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়, সম্পদ, মামলাসহ আট ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ২০২৬-এর নির্বাচনে ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়করের সর্বশেষ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা। এ ছাড়া সম্পদের তথ্যে বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
