আজকাল ওয়েবডেস্ক: পৃথিবীর মহাসাগরগুলি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকে এক ভয়াবহ ‘মেগা-খরা’ বা দীর্ঘস্থায়ী তীব্র খরার হাত থেকে রক্ষা করেছে—সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমনই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের তাপমাত্রা, জলীয়বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে তাদের জটিল পারস্পরিক সম্পর্ক পৃথিবীর জলবায়ুকে ভারসাম্যে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসাগর পৃথিবীর তাপ এবং আর্দ্রতার বিশাল ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। সূর্যের তাপে সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে উঠে যায় এবং পরবর্তীতে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আবার স্থলভাগে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়াটি বিশ্বজুড়ে জলচক্রকে সচল রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি খরার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এই মহাসাগরীয় প্রক্রিয়া এত কার্যকর না হতো, তবে পৃথিবীর বহু অঞ্চল ইতিমধ্যেই তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী খরার মুখোমুখি হতো। বিশেষ করে গত শতাব্দীতে শিল্পায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়লেও সমুদ্র সেই প্রভাবের একটি বড় অংশ শোষণ করে নিয়েছে।
মহাসাগর শুধু তাপই নয়, বায়ুমণ্ডলে থাকা অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি বড় অংশও শোষণ করে। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই প্রক্রিয়াই দীর্ঘমেয়াদি খরাকে অনেকটাই ঠেকিয়ে রেখেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের উষ্ণতা দ্রুত বাড়ছে এবং এর ফলে সমুদ্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়লে বাষ্পীভবন ও বৃষ্টিপাতের ধরনও বদলে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, পানীয় জল এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি সমুদ্রের ওপর চাপ আরও বাড়ে—যেমন দূষণ, অতিরিক্ত উষ্ণতা বা বরফ গলার প্রভাব—তবে পৃথিবীর জলচক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী খরা বা ‘মেগা-ড্রট’-এর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাসাগরকে রক্ষা করা এখন অত্যন্ত জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন কমানো, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং সমুদ্র দূষণ কমানোর মতো পদক্ষেপই ভবিষ্যতে পৃথিবীকে বড় জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
