আজকাল ওয়েবডেস্ক: আচ্ছা এমন একটি জায়গার কথা কল্পনা করুন যেখানে মেঘেরা সারাক্ষণ ভেসে বেরাচ্ছে। কিন্তু কখনও বারিধারা ঝরে পড়ে না। এমন একটি স্থান যা বৃষ্টির অনুভূতি কেমন হয় তা পুরোপুরি ভুলে গিয়েছে। প্রায় চার শতাব্দী ধরে এই জায়গার মাটি এক ফোঁটা বৃষ্টির জল পায়নি। যে জগতে জলই সব কিছু নির্ধারণ করে, সেই পৃথিবীতে এই ভূখণ্ডটি জল ছাড়াই টিকে আছে। যা পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক বিস্ময়। উত্তর চিলিতে অবস্থিত আটাকামা মরুভূমিটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক অমেরু মরুভূমি হিসেবে পরিচিত।
আটাকামা মরুভূমিটি প্রশান্ত মহাসাগর এবং আন্দিজ পর্বতশ্রেণীর মাঝে বিস্তৃত। রেকর্ড অনুযায়ী, কিছু এলাকায়, বিশেষ করে কালামা শহরের কাছে, ১৫৭০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কার্যত কোনও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। এই মরুভূমিটি দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত, যা চিলির মধ্য দিয়ে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে। এই ভূখণ্ডটি একটি ভিনগ্রহের রাজ্যের মতো মনে হয়, যা অপার্থিব পাথরের আকৃতি, লবণাক্ত সমভূমি এবং বালিয়াড়ি দ্বারা সজ্জিত। এখানে জীবন যেন কেবল হাওয়ার মাধ্যমেই তার অস্তিত্ব জানান দেয়।
মরুভূমির অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং আবহাওয়াজনিত কারণগুলি এর শুষ্ক প্রকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটির একদিকে সুউচ্চ আন্দিজ পর্বতমালা এবং অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের শীতল জল। এই প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাগুলি আর্দ্রতাবাহী মেঘকে মরুভূমির অভ্যন্তরে পৌঁছাতে বাধা দেয়, যার ফলে বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম হয় এবং জলবায়ু চরম শুষ্ক থাকে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও এখানে জীবন বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে নেয়। ফাটল ধরা ভূপৃষ্ঠের নীচে এমন সহনশীল অণুজীব রয়েছে যা লবণের স্তরেও বেঁচে থাকে। এরপর আসে ফ্লেমিঙ্গোরা, যারা ভূগর্ভস্থ খনিজ জলের দ্বারা পুষ্ট উঁচু অঞ্চলের হ্রদগুলির চারপাশে জড়ো হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়গুলিও শত শত বছর ধরে এই শুষ্ক অঞ্চলে বসবাস করছে।
আটাকামা মরুভূমি প্রতিটি ভ্রমণকারীর স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে। এটি অসাধারণ সব অভিজ্ঞতার সম্ভার নিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
