আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওমানের সোহার শহরে একটি শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলায় দু’জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।আহত হয়েছেন আরও দশজন ভারতীয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলা কে করেছে তা পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে এখনও বলা হয়নি, তবে নানা প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে এটি ইরানের ড্রোন হামলা। শুক্রবার সোহার শহরের আল আওয়াহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়াতে এই হামলা ঘটে। সোহার শহরটি ওমানের রাজধানী মাস্কাটের থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রেকর উপসাগর বিষয়ক যুগ্মসচিব অসীম মহাজান একটি বৈঠকে এই ঘটনার কথা জানান। তিনি বলেন, “হামলায় মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনই ভারতীয় নাগরিক।”
ওমানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সোহার এলাকায় দু’টি ড্রোন ভেঙে পড়ে। তার মধ্যে একটি ড্রোন শিল্প এলাকায় আঘাত করে। এতে দুইজন প্রবাসী শ্রমিক মারা যান।
পশ্চিম এশিয়ার একটি সমুদ্র উপসাগরকে ঘিরে যে দেশগুলি আছে, যেমন সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান ইত্যাদিকে সাধারণভাবে ‘গাল্ফ দেশ’ বলা হয়। ইংরেজি শব্দ পার্সিয়ান গাল্ফ থেকে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে কারও আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। ভারতের দূতাবাস, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।আহতদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য যেকোনও রকমের সহায়তায় সব ধরনের সাহায্য দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। এই সংঘাতের জেরে বিভিন্ন জায়গায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। এই সংঘাত শুরুর পরে, গোড়ার দিকে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। তারা বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় মারা যান। আরও একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে স্থলভাগে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম।
ভারত সরকার পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ভারত সরকার যোগাযোগ রাখছে। এরই মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ ভারতীয় দেশে ফিরে এসেছেন। গত কয়েক দিনে কাতার এয়ারওয়েজ–এর ফ্লাইটে কাতার থেকে প্রায় ২,৯০০ জন ভারতীয় দেশে ফিরেছেন। বাহরাইন থেকেও প্রায় ১,০০০ জন ভারতীয় ফিরে এসেছেন।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা রয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগো, সৌদি আরবের রিয়াদ শহর থেকেও ফ্লাইট চালু করেছে। এদিকে ইরাকের বসরা উপকূলে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটির নাম সেফসি বিষ্ণু। সেখানে কর্মরত ১৫ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
তাদের বর্তমানে বাস্রা শহরের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। ওই হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক মারা গিয়েছেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
