আজকাল ওয়েবডেস্ক: অকথ্য অত্যাচারের জের, বাংলাদেশে ফের বলি আরেক সংখ্যালঘু নাগরিক। দীপু চন্দ্র দাসের পরে এবার খোকন দাস। গত বুধবার রাতে উন্মত্ত জনতা প্রৌঢ় খোকনকে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। শরীরে প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। শনিবার মারা গেলেন বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার তিলোই গ্রামের বাসিন্দা খোকন দাস।
সেদেশের সংবাদপত্র কালবেলার খবর অনুসারে, বছর বাহান্নর খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেছেন, "আমরা হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে, তিনি মারা গিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই হত্যাকাণ্ড উদ্বেগ আরও বাড়াল। বৃহস্পতিবার প্রথম আলো জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর হামলাটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কানেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা বাজারের কাছে ঘটেছিল। কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিলাই গ্রামের বাসিন্দা খোকন দাস স্থানীয় বাজারে একটি ওষুধের দোকান এবং একটি মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবসা চালাতেন।
দিন শেষে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত খোকন দাসের গাড়ি থামায়, তারপর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ। শেষ তাঁর মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় খোকন পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন, ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।
রাত ১০টা নাগাদ জখম খোকনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভাল চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে।
খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস প্রথম আলোকে বলেছেন, "আমার স্বামী প্রতিদিন রাতে দোকান বন্ধ করে টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। তিনি হামলাকারীদের মধ্যে দু'জনকে চিনতে পেরেছিলেন, এই কারণেই ওরা আমার স্বামীকে কুপিয়েছে, ওঁর মাথায় ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।"
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, "খোকন দাসের পেটের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর মুখ, মাথার পেছনে এবং হাতেও পোড়ার ক্ষত আছে।" দামুদ্যার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ রবিউল হক বলেছেন, "হামলাকারীদের মধ্যে দু'জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন স্থানীয় রাব্বি ও সোহাগ। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। সম্প্রতি ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস এবং ঢাকায় অমৃত মণ্ডলের মৃত্যু ঘটনা সেদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
