আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধে নাক গলাতে রাজি হলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা গেল তাঁর গলায়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সময় প্রশংসা করলেন যখন পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার আফগানিস্তানে হামলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের প্রশংসা করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি (হস্তক্ষেপ) করবো, কিন্তু আপনার একজন মহান প্রধানমন্ত্রী আছেন, আপনার একজন মহান জেনারেল আছেন, আপনার একজন মহান নেতা আছেন। এই দুই ব্যক্তিকে আমি সত্যিই অনেক সম্মান করি। আমার মনে হয় পাকিস্তান অসাধারণভাবে ভাল করছে।”
আফগানিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, আকাশ পথে দেশের ২৯টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে আফগানরা। পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধে ২৯৭ জন আফগান তালিবান এবং জঙ্গি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আফগান বাহিনী ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং আরও বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসে। এর পরে এটিই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আক্রমণ।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের সামরিক ঘাঁটি এবং জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, কাবুলের গ্রিন জোনে কোনও আঘাত লাগেনি। জিও নিউজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন যে, শত্রুর সামরিক ঘাঁটিগুলি ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, আফগান তালিবানরা খাইবার এবং চিত্রালে সংঘর্ষের চেষ্টা করেছে কিন্তু তাদের প্রচলিত যুদ্ধ সক্ষমতার অভাব রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তালিবান হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’কে সমর্থন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যালিসন হুকার শুক্রবার আফগানিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহতদের জন্য পাকিস্তানের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “পাকিস্তান এবং তালfবানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহতদের জন্য সমবেদনা জানাতে আজ পাকিস্তানের বিদেশ সচিব বালোচের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং তালিবান হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করছি।”
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আমেরিকা-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সমীকরণ বদলে যায়। ইসলামাবাদও প্রায়শই ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেছে। পাকিস্তানের দাবি ছিল যে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। পাকিস্তান ওয়াশিংটনের একটি প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র হলেও, আফগান তালিবানকে আমেরিকা ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
