আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে খতম করতে নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছিল তারা। ঠিক ১৫ বছর পর ২০২৬ সালে আবারও সেই দুর্ধর্ষ নেভি সিল টিম সিক্স-এর সদস্যরা ইরানের সার্বভৌম সীমানার ভেতরে পা রাখল। তবে এবার তারা কোনও  প্রাণ নিতে নয়, বরং একজনের প্রাণ বাঁচাতে গিয়েছিল। গত ৩ এপ্রিল ইরানের দুর্গম জাগ্রোস পাহাড়ে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার   পর শুরু হয় এই শ্বাসরুদ্ধকর নাটক। বিমানের পাইলট দ্রুত উদ্ধার পেলেও তার সহযোগী অফিসার নিখোঁজ হয়ে যান। শুরু হয় পাহাড়ি গুহায় বেঁচে থাকার লড়াই। একদিকে আহত ওই পাইলট মাত্র একটি পিস্তল আর এনক্রিপ্টেড বিকন নিয়ে ৭ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে লড়াই করছিলেন, অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং স্থানীয় উপজাতিরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বড় অংকের পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একদিকে ইরানকে নিয়ে একের পর এক কড়া হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, তখন নেপথ্যে চলছিল যুদ্ধের চেয়েও বড় এক উদ্ধার অভিযান। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানি বাহিনীর প্রতিটি নড়াচড়া ট্র্যাক করছিল এবং তাদের বিমান বাহিনী আকাশপথে একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করে দেয়। মার্কিন সিআইএ একটি চতুর ছক কষে ইরানকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ায় যে পাইলট আগেই স্থলপথে পালিয়েছেন। কিন্তু আসল লড়াই ছিল পাহাড়ের চূড়ায়। শত শত স্পেশাল ফোর্স, ডজনখানেক যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার নিয়ে যখন নেভি সিল পাহাড়ে নামে, তখন পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। ইসফাহানের কাছে একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে যখন উদ্ধারের জন্য পাঠানো দুটি মার্কিন এমসি-১৩০জে পরিবহন বিমান বিকল হয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি ২০১১ সালের অ্যাবোটাবাদ অভিযানের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। মার্কিন কমান্ডোরা এক মুহূর্ত দেরি না করে গোপনীয় প্রযুক্তি শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে নিজেদের বিমানগুলো বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয়।

&t=1s

সিল টিম সিক্স যখন শেষ পর্যন্ত ওই আহত পাইলটকে খুঁজে পায়, তখন চারপাশ থেকে ইরানি বাহিনী ঘিরে ধরছিল। আকাশে গর্জে ওঠে মার্কিন যুদ্ধবিমান, মাটির বুকে শুরু হয় ভারী গোলাগুলি। আগুনের গোলার মধ্য দিয়েই ওই বৈমানিককে নিয়ে আরও তিনটি বিকল্প বিমানে চড়ে মার্কিন কমান্ডোরা ইরানের সীমানা পেরিয়ে কুয়েতে পৌঁছান। এই বিশাল যজ্ঞে কোনও  মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। এর আগে অ্যাবোটাবাদে অভিযান ছিল অনেকটা সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের মতো—ছোট্ট একটি দল গেল এবং কাজ শেষ করে চলে এল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই ইরান অভিযান ছিল আস্ত এক হাতুড়ির আঘাতের মতো। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আর যুদ্ধের দামামার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করল, তাদের একজন সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে তারা পুরো সামরিক শক্তি বা আধুনিক যুদ্ধবিমান বিসর্জন দিতেও পেছোতে রাজি নয়। ধ্বংস হওয়া হার্ডওয়্যারের চেয়ে একজন যোদ্ধার জীবনের মূল্যই সেখানে ছিল সর্বোচ্চ। শেষ পর্যন্ত ওই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনার পর মার্কিন প্রশাসন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, যদিও হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আরও তুঙ্গে।