আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যাবহার করে নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছে। এই রাজনীতিকে বলা হচ্ছে ‘ক্রিপ্টো ডিপ্লোমেসি’। এর কেন্দ্রে আছে বিলাল বিন সাকিব। ৩৫ বছরের এই যুবক ‘ক্রিপ্টো ব্রো’ নামেও পরিচিত। এই তরুণ বর্তমানে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারক। তাঁর হাত ধরে পাকিস্তান ক্রিপ্টোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানান হয় জ্যাকারি উইটকফকে। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো সংস্থা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যানশিয়ালের সিইও তিনি। পাশাপাশি তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের লোক। তাঁকে ঘিরে যে আয়োজন করা হয়, তা অনেকটাই আন্তঃরাষ্ট্রীয় সফরের মতোই ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানও। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নিজের ক্রিপ্টোর মাধ্যমে পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও গঠনমূলক করতে চাইছে বলে বিশেষজ্ঞের দাবি। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে একটি ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে ইসলামাবাদ। 

আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরানের সংঘর্ষের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ পড়তে পারে। এই অবস্থায় আমেরিকা ও ইরানের মাঝে মধ্যস্থতা করতে চাইছে পাকিস্তান। আমেরিকা যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধে ইতি টানতে চায় তাহলে ইসলামাবাদ সেই আলোচনা আয়োজন করতে নিজে থেকে এগিয়ে এসেছে। পাকিস্তান ১৫ দফার শান্তি-প্রস্তাবও পেশ করেছে বলে সূত্রের খবর। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান মধ্যস্থতায় করতে চাইছে তার বড় কারণ, পাকিস্তান নিজের অর্থনৈতিক অবস্থানকে একটু উন্নত করতে চাইছে। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তান ঋণগ্রস্ত। সেই ঋণ শোধ করার অভিপ্রায়ে এই সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ দ্রুত না থামলে পাকিস্তানের ঘরে সমস্যা হতে পারে। তাই ইসলামাবাদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরতে চাইছে তারা। ক্রিপ্টো দিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে পাকিস্তান। আঁটঘাঁট বেঁধেই নেমেছে তারা। ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে ভার্চুয়াল অ্যাসেট আইন। গঠন করেছে ক্রিপ্ট রেগুলেটর। আর ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য বরাদ্দ করেছে বিপুল বিদ্যুৎ। 

লাহোরের বাসিন্দা সাকিবের জীবনকাহিনীও বেশ নাটকীয়। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি একসময় একাধিক কাজ করেছেন, এমনকি করতে হয়েছে টয়লেট পরিষ্কারও। তারপর লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে পড়াশোনা করেন। সামাজিক কাজের জন্য পান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও, এবং সবশেষে হঠাৎ করেই পান পাকিস্তান সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ। আজ তিনি, ক্রপ্টো কাউন্সিলের প্রধান, পাশাপাশি সরকারি উপদেষ্টা ও ভার্চ্যুয়াল অ্যাসেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাথাও। 

সাকিবের যোগাযোগ এখন ক্রিপ্টো দুনিয়ার বড় বড় মাথাদের সঙ্গে। এমনকি তিনি ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গেও খুবই ঘনিষ্ট হয়ে উঠেছেন। ফলে আন্তর্জাতিক তর্জায় এখন এই ক্রিপ্টোকেন্দ্রীক অনুষ্ঠান শুধু পাকিস্তানের জন্য নয় বরং আমেরিকার দিক থেকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ, ও পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের পাশাপাশি আমেরিকার কাছে খুলে যাচ্ছে ক্রিপ্টোর বড় বাজার। পাকিস্তানের ক্রিপ্টো ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। 

তবে এই নতুন কৈশলে একটুও ঝুঁকি নেই এমনটা নয়। ক্রিপ্টোর এই নবজোয়ারে আপত্তি তুলেছে আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। পাশাপাশি ক্রিপ্টো বাজারের অনিশ্চয়তাও রয়েছে খুব, এবং পাকিস্তানের আরও একটি ভয় আমেরিকার খামখেয়ালিপনা। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ আরও প্রবল হলে পাকিস্তান পড়তে পারে আরও বিপাকে। 

ক্রিপ্টোকারেন্সি শুধু এখন আর কোনও বিনিয়োগের জায়গাই নয়, হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক হাতিয়ার। পাকিস্তান এই হাতিয়ার ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে নিজের এক পাকাপোক্ত জায়গা তৈরি করতে চাইছে। তবে এরই মধ্যে এসে পড়েছে সাকিবের পরিশ্রম ও অনেকখানি লড়াইয়ের পরে জিতে যাওয়ার গল্প।