আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড়সড় ভিসা জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর মামলায় ১১ জন ভারতীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের দাবি, তারা পরিকল্পিতভাবে নকল ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে ইউ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ইউ ভিসা কী এবং এটি কার জন্য।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া অপরাধের নাটক সাজাতেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু মানুষ নিজেদের ডাকাতির শিকার বলে দাবি করতেন, আর অন্যরা সেই ঘটনাকে সমর্থন করে সাক্ষ্য দিতেন। এরপর তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করে ইউ ভিসার জন্য আবেদন করতেন।
ইউ ভিসা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এমন বিদেশি নাগরিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যারা গুরুতর অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি। এই ভিসা চালু হয় ২০০০ সালে। এর উদ্দেশ্য ছিল অপরাধের শিকার মানুষদের সামনে এসে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা এবং তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া।
এই ভিসার মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা সাময়িকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পান এবং কিছু ক্ষেত্রে কাজ করার অনুমতিও পান। নির্দিষ্ট সময় পরে তারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্যও আবেদন করতে পারেন। তাই অনেকের কাছে ইউ ভিসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন পথ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা এই সুযোগের অপব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতেন যাতে মনে হয় সত্যিই কোনও অপরাধ ঘটেছে। পরে সেই ঘটনার ভিত্তিতে ইউ ভিসার আবেদন করা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে ‘নকল ডাকাত’ নিয়োগ করে ঘটনাকে বাস্তবের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু অভিবাসন ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং প্রকৃত অপরাধের শিকারদের জন্য তৈরি আইনি ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দেয়। ফলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভিসা জালিয়াতি এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউ ভিসা মূলত মানবিক কারণে চালু করা হয়েছিল যাতে অপরাধের শিকার মানুষরা নিরাপদে আইনি সাহায্য চাইতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
