আজকাল ওয়েবডেস্ক: অসমে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের মধ্যেই জুবিন গর্গের ছবিতে কষিয়ে লাথি চালালেন এক কংগ্রেস কর্মী। এই ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় গোটা রাজ্য।

বিজেপিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে আক্রমণ করেছে কংগ্রেসকে। কংগ্রেসের কর্মীর বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠায় রাজ্যে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে অসমের বিজনি এলাকায়। জানা গিয়েছে, এলাকারই একটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায় কংগ্রেস কর্মী। কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে পার্টি অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করারও।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাঙচুর চলাকালীন অসম তথা গোটা ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের ছবিতে লাথি মারেন এক কংগ্রেস কর্মী।

এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা। তিনি এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তাঁর অভিযোগ, ‘কংগ্রেস জুবিন গর্গের নাম ব্যবহার করে ঠিকই, কিন্তু সম্মান করে না একটুও। তাই জুবিনকে অপমান করার আগে ওদের হাত একটুও কাঁপেনি। অসমের মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ওরা। মনে রাখবেন, গোটা নির্বাচনী মরশুমে জুবিন গর্গের নাম ব্যাবহার করার পরে কিন্তু এই অপমানজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এখন ওদের মুখোশ খুলে গিয়েছে। অসমবাসীর কাছে পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে।’ 

অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয় ওই কংগ্রেস কর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই কর্মীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।

পরে, ওই কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একটানা জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, বিজনি কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার কারণেই কর্মীরা পার্টি অফিস ভাঙচুর করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই অপমানিত হতে হয় অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গকে। অসম তথা গোটা দেশের এই জনপ্রিয় গায়ক মারা যান ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর।

সিঙ্গাপুরে একটি কনসার্টে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে তাঁর মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা যায়, তিনি জলে ডুবে মারা যান। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি জলে নামার আগে লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকার করেছিলেন।

হাইপ্রেশার ও মৃগী রোগ থাকায় জলে নামার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও দাবি করা হয়। জানা যায়, মৃত্যুর আগে ২০২৪ সালে শেষবার মৃগীতে আক্রান্ত হয়েছিলেন জুবিন।

এমনকী, ভারতেও জুবিনের মৃত্যুকে ঘিরে তদন্ত হয়েছে, খুনের সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জুবিনের ব্যান্ডের সদস্য, নিরাপত্তারক্ষী ও ম্যানেজারও রয়েছেন।

ঘটনার পর জুবিনের পরিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তদন্তের আবেদন করে। দ্রুত বিচার ও বিশেষ আদালত গঠনের দাবিও জানানো হয়। এছাড়া, সিঙ্গাপুরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।